বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
ভগবতীদেবী।

মানবলীলাসম্বরণ করিলে পর, তাঁহার পুত্রগণের বিষয়বিভাগ উপলক্ষে পরস্পর বিষম মনান্তর ঘটে। রামজয় ধার্ম্মিক ও উদারস্বভাব ছিলেন। তিনি অকিঞ্চিৎকর বিষয়ের জন্য, প্রাণসম সোদরবর্গের সহিত বিরোধ করা অতি গর্হিত কর্ম্ম বিবেচনা করিয়া, দুইটী পুত্র ও চারিটী কন্যা রাখিয়া, কাহাকেও কোন কথা প্রকাশ না করিয়া, সন্ন্যাসীর বেশে তীর্থ-পর্য্যটনে প্রস্থান করেন। রামজয় তর্কভূষণ দেশত্যাগী হইলেন; তদীয় পত্নী দুর্গাদেবী পুত্রকন্যা লইয়া বনমালিপুরের বাটীতে অবস্থিতি করিতে লাগিলেন। অল্পদিনের মধ্যেই দুর্গাদেবীর লাঞ্ছনাভোগ ও তদীয় পুত্রকন্যাদের উপর কর্ত্তৃপক্ষের অযত্ন ও অনাদর, এতদূর পর্য্যন্ত হইয়া উঠিল যে, দুর্গাদেবী পুত্রদ্বয় ও কন্যাচতুষ্টয়কে লইয়া, পিতৃভবন বীরসিংহে আগমন করিলেন। তাঁহার পিতা উমাপতি তর্কসিদ্ধান্ত, সমাদরপূর্ব্বক নিরাশ্রয়া দুহিতা ও তাঁহার সন্তানগণকে স্বীয় সদনে আশ্রয় দিলেন। তৎকালে তাঁহার জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র ঠাকুরদাসের বয়ঃক্রম দশ বৎসর ও কনিষ্ঠ কালিদাসের প্রায় সাত বৎসর। তর্কসিদ্ধান্ত উভয় দৌহিত্রের লেখাপড়া শিক্ষার নিমিত্ত বীরসিংহনিবাসী গ্রহাচার্য্য পণ্ডিত কেনারাম বাচস্পতিকে নিযুক্ত করিলেন। আচার্য্য মহাশয় তৎকালে ঐ প্রদেশের মধ্যে জ্যোতিষ শাস্ত্রে অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। তিনি স্বল্প দিবসের মধ্যেই ভ্রাতৃদ্বয়কে বাঙ্গলা ভাষা, শুভঙ্করী অঙ্ক ও জমিদারী সেরেস্তার কাগজ প্রভৃতি শিক্ষা দিয়া পরে সংক্ষিপ্তসার ব্যাকরণ অধ্যয়ন করাইতে প্রবৃত্ত হইলেন। উমাপতি তর্কসিদ্ধান্ত অতিশয় বৃদ্ধ হইয়াছিলেন; এজন্য সংসারের কর্তৃত্ব তদীয় পুত্র রামসুন্দর ভট্টাচার্য্যের হস্তে ন্যস্ত ছিল। উক্ত রামসুন্দর ভট্টাচার্য্যের পত্নীর সহিত দুর্গাদেবীর