মনোমালিন্য ঘটিল। দুর্গাদেবী পরিশেষে বৃদ্ধপিতা তর্কসিদ্ধান্তকে সবিশেষ অবগত করিলেন। তিনি বলিলেন, আমি সকলই বিশেষরূপ অবগত আছি। অতঃপর উহাদের সহিত তোমার একত্র সদ্ভাবে বাস করা চলিবে না। পৃথক্ স্থানে বাস করা নিতান্ত আবশ্যক। দুর্গাদেবী তাহাতে সম্মত হইলেন। পরদিন তর্কসিদ্ধান্ত গ্রামস্থ ভদ্রলোকদিগকে আহ্বান করিয়া বলিলেন যে, রামসুন্দরের ও বধূমাতার সহিত দুর্গার এক গৃহে বাস করা দুরূহ, অতএব আমি স্বতন্ত্র স্থানে ইহার গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া দিব স্থির করিয়াছি। তাহাতে গ্রামস্থ ভদ্রলোকগণও সম্মত হইলেন। অনন্তর বার্ষিক ৯ টাকা জমার কিঞ্চিৎ ভূমি লইয়া, তাহাতে গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া দিলেন; পরে জমিদারকে বলিয়া ও অনুরোধ করিয়া উক্ত জমি লাখরাজ করিয়া দিবেন স্থির করেন। ইতিমধ্যে তর্কসিদ্ধান্ত ইহজগৎ পরিত্যাগ করিয়া লোকান্তর গমন করিলেন। সুতরাং এই নূতন বাস্তু আর লাখরাজ হইল না। এই বাস্তুর বার্ষিক কর জমিদারকে দিতে হইল। দুর্গা দেবীর সংসার নির্ব্বাহের উপায়ান্তর ছিল না। তৎকালে বিলাতী সূতার আমদানি হয় নাই; এ প্রদেশের নিরুপায় অনেক স্ত্রীলোকেই টেকুয়া ও চরকায় সূতা কাটিয়া, সেই সূতা বিক্রয় করিয়া অতিকষ্টে সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করিত। আত্মীয়বর্গের উপদেশানুসারে দুর্গাদেবীও অগত্যা একটা চরকা ক্রয় করিয়া সূতা কাটিতে আরম্ভ করিলেন। সুতা বিক্রয় করিয়া অল্পই আয় হইত। তাদৃশ স্বল্প আয় দ্বারা আপনার, দুই পুত্রের ও চারি কন্যার ভরণ পোষণ সম্পন্ন হওয়া সম্ভবপর নহে। সুতরাং তাঁহাদের আহারাদি সর্ব্ববিষয়ে ক্লেশের সীমা ছিল না। এক্ষণে ঠাকুরদাসের বয়ঃক্রম চতুর্দশ বৎসর অতীতপ্রায়;
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৩২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিবাহ ও বধূজীবন।
১৯