বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০
ভগবতীদেবী।

পড়া শুনা অধিক দিন করিলে সংসার চলা দুস্কর। আত্মীয়বর্গ এই উপদেশ দেন যে, সংস্কৃত অধ্যয়ন বন্ধ করিয়া, যাহাতে শীঘ্র উপার্জ্জন করিতে সমর্থ হন, এরূপ বিদ্যাশিক্ষা করা অত্যাবশ্যক। ঠাকুরদাস জননীর অসহ্য যন্ত্রণা দর্শনে নিরতিশয় কাতর হইয়া অর্থোপার্জ্জনের আকাঙ্ক্ষায় জননীর অনুমতি লইয়া গৃহত্যাগ করিয়া কলিকাতায় যাত্রা করিলেন।

 ঠাকুরদাস কলিকাতায় আগমনের পর কিরূপ কষ্টে দিনযাপন করিয়া অবস্থার উন্নতিসাধন করিয়াছিলেন, সে সম্বন্ধে বিদ্যাসাগর মহাশয় স্বরচিত আত্মচরিতে যাহা উল্লেখ করিয়াছেন, পাঠকবর্গের অবগতির জন্য তাহার কিয়দংশ এস্থানে উদ্ধৃত করিয়া দিলাম। “সভারাম বাচস্পতি নামে আমাদের এক সন্নিহিত জ্ঞাতি কলিকাতায় বাস করিয়াছিলেন। তাঁহার পুত্র জগন্মোহন ন্যায়ালঙ্কার সুপ্রসিদ্ধ চতুভুর্জ ন্যায়রত্নের নিকট অধ্যয়ন করেন। ন্যায়ালঙ্কার মহাশয় ন্যায়রত্ন মহাশয়ের প্রিয় শিষ্য ছিলেন ও তাঁহার অনুগ্রহে ও সহায়তায় কলিকাতায় বিলক্ষণ প্রতিপন্ন হইয়াছিলেন। ঠাকুরদাস এই সন্নিহিত জ্ঞাতির আবাসে উপস্থিত হইয়া, আত্মপরিচয় দিলেন এবং কিজন্য আসিয়াছেন, অশ্রুপূর্ণলোচনে তাহা ব্যক্ত করিয়া আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন। ন্যায়ালঙ্কার মহাশয়ের সময় ভাল, তিনি অকাতরে অন্ন ব্যয় করিতেন, এমন স্থলে, দুর্দশাপন্ন আসন্ন জ্ঞাতিসন্তানকে অন্ন দেওয়া দুরূহ ব্যাপার নহে। তিনি, সাতিশয় দয়া ও সবিশেষ সৌজন্য প্রদর্শন পূর্ব্বক ঠাকুরদাসকে আশ্রয়প্রদান করিলেন।”

 ঠাকুরদাস, প্রথমতঃ বনমালিপুরে, তৎপরে বীরসিংহে, সংক্ষিপ্তসার