ব্যাকরণ পড়িয়াছিলেন। এক্ষণে তিনি ন্যায়ালঙ্কার মহাশয়ের চতুষ্পাঠীতে রীতিমত সংস্কৃত বিদ্যার অনুশীলন করিবেন, প্রথমতঃ এই ব্যবস্থা স্থির হইয়াছিল এবং তিনিও তাদৃশ অধ্যয়নবিষয়ে সবিশেষ অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু যে উদ্দেশে, তিনি কলিকাতায় আসিয়াছিলেন, সংস্কৃত পাঠে নিযুক্ত হইলে, তাহা সম্পন্ন হয় না। তিনি সংস্কৃত পড়িবার জন্য, সবিশেষ ব্যগ্র ছিলেন যথার্থ বটে, এবং সর্ব্বদাই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিতেন, যত কষ্ট, যত অসুবিধা হউক না কেন, সংস্কৃতপাঠে প্রাণপণে যত্ন করিব। কিন্তু, জননীকে ও ভাই ভগিনীগুলিকে কি অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছেন, যখন তাহা মনে হইত, তখন সে ব্যগ্রতা ও সে প্রতিজ্ঞা, তদীয় অন্তঃকরণ হইতে একেবারে অপসারিত হইত। যাহা হউক, অনেক বিবেচনার পর, অবশেষে ইহাই অবধারিত হইল, যাহাতে তিনি শীঘ্র উপার্জনক্ষম হন, সেইরূপ পড়া শুনা করাই কর্তব্য।”
“এই সময়ে, মোটামুটি ইংরেজী জানিলে, সওদাগর সাহেবদিগের হৌসে অনায়াসে কর্ম্ম হইত। এজন্য সংস্কৃত না পড়িয়া, ইংরেজী পড়াই, তাঁহার পক্ষে, পরামর্শসিদ্ধ স্থির হইল। কিন্তু, সে সময়ে ইংরেজী পড়া সহজ ব্যাপার ছিল না। তখন, এখনকার মত, প্রতি পল্লীতে ইংরেজী বিদ্যালয় ছিল না। তাদৃশ বিদ্যালয় থাকিলেও, তাঁহার ন্যায় নিরুপায় দীন বালকের তথায় অধ্যয়নের সুবিধা ঘটিত না। ন্যায়ালঙ্কার মহাশয়ের পরিচিত এক ব্যক্তি কার্য্যোপযোগী ইংরেজী জানিতেন। তাঁহার অনুরোধে, এই ব্যক্তি ঠাকুরদাসকে ইংরেজী পড়াইতে সম্মত হইলেন। তিনি বিষয় কর্ম্ম করিতেন; সুতরাং দিবাভাগে, তাঁহার পড়াইবার অবকাশ ছিল না। এজন্য, তিনি ঠাকুরদানকে সন্ধ্যার সময় তাঁহার