নিকট যাইতে বলিয়াছিলেন। তদনুসারে ঠাকুরদাস, প্রত্যহ সন্ধ্যার পর তাঁহার নিকটে গিরা ইংরেজী পড়িতে আরম্ভ করিলেন।”
“ন্যায়ালঙ্কার মহাশয়ের বাটীতে, সন্ধ্যার পরেই, উপরি লোকের আহারের কাণ্ড শেষ হইরা যাইত। ঠাকুরদাস ইংরেজী পড়ার অনুরোধে সে সময় উপস্থিত থাকিতে পারিতেন না। এইরূপে নক্তন্তন আহারে বঞ্চিত হইয়া তিনি দিন দিন শীর্ণ ও দুর্ব্বল হইতে লাগিলেন।” পরিশেষে তাঁহার শিক্ষকের পরামর্শানুসারে তাঁহার আশ্রয় গ্রহণ করিলেন। এই সদাশয় দয়ালু মহাশয়ের দয়া ও সৌজন্য যেরূপ ছিল, আয় সেরূপ ছিল না। কোনও কোনও দিন কার্য্যবশসতঃ তিনি দিবাভাগে বাসার আসিতে পারিতেন না। সেই সেই দিন, ঠাকুরদাসকে সমস্ত দিন উপবাসী থাকিতে হইত।
“কিছুদিন পরে ঠাকুরদাস, আশ্রয়দাতার সহায়তায় মাসিক দুই টাকা বেতনে, কোনও স্থানে নিযুক্ত হইলেন। এই কর্ম্ম পাইয়া, তাঁহার আর আহলাদের সীমা রহিল না। পূর্ব্ববৎ আশ্রয়দাতার আশ্রয়ে থাকিয়া, আহারের ক্লেশ সহা করিয়াও বেতনের দুইটী টাকা, যথা নিয়মে, জননীর নিকট পাঠাইতে লাগিলেন। তিনি বিলক্ষণ বুদ্ধিমান্ ও যারপরনাই পরিশ্রমী ছিলেন, এবং কখনও কোনও ওজর না করিয়া সকল কর্ম্মই সুন্দররূপে সম্পন্ন করিতেন; এজনা, ঠাকুরদাস যখন যাঁহার নিকট কর্ম্ম করিতেন, তাঁহারা সকলেই তাঁহার উপর সাতিশয় সন্তুষ্ট হইতেন। দুই তিন বৎসর পরেই, ঠাকুরদাস মাসিক পাঁচ টাকা বেতন পাইতে লাগিলেন। তখন তাঁহার জননীর ও ভাই ভগিনীগুলির অপেক্ষাকৃত অনেক অংশে কষ্ট দূর হইল।”