এদিকে রামজয় তীর্থস্থানে থাকিয়া স্বপ্ন দেখেন যে, তুমি পরিবারবর্গকে কষ্ট দিয়া তীর্থক্ষেত্রে ভ্রমণ করিতেছ, ইহাতে তোমার অধর্ম্ম হইতেছে। একারণ পাঁচ বৎসরের পরে দেশে আগমন পূর্বক বনমালিপুরে আসিয়া দেখিলেন যে, সহোদরেরা পৃথক হইয়াছেন এবং শুনিলেন যে, তাঁহার পত্নী বীরসিংহের পিত্রালয়ে অবস্থিতি করিতেছেন। সুতরাং রামজয় পরিবারবর্গকে আনয়ন করিবার জন্য বীরসিংহে গমন করিলেন। গৈরিকবসন পরিধান করিয়া, হিন্দুস্থানী সন্ন্যাসীর বেশে শ্বশুর বাটীতে সমুপস্থিত হইলেন। প্রথমতঃ কাহাকেও আত্মপরিচয় না দিয়া, গ্রামের মধ্যে ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতে লাগিলেন। তাঁহার কনিষ্ঠা কন্যা অন্নপূর্ণা দেবী, পিতাকে চিনিতে পারিয়া, ‘বাবা’ বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিয়া উঠিলেন। তখন রামজয় আত্মপরিচয় দিলেন। কয়েক দিবস বীরসিংহে অবস্থিতি করিয়া, পরিবারবর্গকে বনমালিপুরে লইয়া যাইবার উদ্যোগ করিলেন। কিন্তু তাঁহার পত্নী বনমালিপুরে যাইতে সম্মত হইলেন না। যেহেতু তাঁহার ভ্রাতৃবর্গ অসদ্ব্যবহার করিয়াছেন; এতাবৎকালের মধ্যে তাঁহাদের কোন সংবাদ গ্রহণ করেন নাই; সুতরাং রামজয় অগত্যা বীরসিংহে পরিবারবর্গকে রাখিতে বাধ্য হইলেন।
রামজয় অতি বুদ্ধিমান্, বলশালী, সাহসী, তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা পুরুষ ছিলেন। নীরবে কাহারও নিকটে কোন অবমাননা সহ্য করা তাঁহার প্রকৃতিবিরুদ্ধ ছিল। চিরজীবন তিনি নিজ অভিপ্রায়ের অনুবর্ত্তী হইয়া চলিয়াছেন। কাহারও নিকট কোন উপকার প্রত্যাশায় হীনতা স্বীকার করা অপেক্ষা মৃত্যুই তিনি শ্রেয়ঃকল্প বলিয়া মনে করিতেন। তিনি অতিশয় অমায়িক ও সদাশয় লোক ছিলেন।