সকলকে তিনি সমভাবে দেখিতেন এবং সকলের প্রতি সস্নেহ ব্যবহার করিতেন; এবিষয়ে তাহার উচ্চ নীচ প্রভেদজ্ঞান ছিল না। তিনি একাহারী, নিরামিষাশী ও নিষ্ঠাবান্ ও নৈমিত্তিক কর্ম্মে সবিশেষ অবহিত ছিলেন বলিয়া সকলে তাঁহার প্রতি যোগীর ন্যায় ভক্তি প্রকাশ করিত।
তিনি লৌহযষ্টি হস্তে লইয়া সর্ব্বত্র ভ্রমণ করিতেন, কাহাকেও ভয় করিতেন না। এক সময়ে বীরসিংহ হইতে মেদিনীপুর যাইতেছেন, পথিমধ্যে এক ভল্লুক দেখিতে পাইলেন। ভল্লুক দেখিয়া ভয় না পাইয়া এক বৃক্ষের অন্তরালে দণ্ডায়মান হইলে, ভল্লুক তাঁহাকে আক্রমণ করিবার জন্য বৃক্ষের চতুর্দ্দিকে তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ঘূর্ণমাণ হওয়ায় তিনিও অগ্রে অগ্রে ঘুরিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ভল্লুক দুই হস্ত প্রসারণ পূর্ব্বক বৃক্ষটী বেষ্টন করিয়া তাঁহাকে ধরিবার চেষ্টা করিল; ঐ সময় রামজয় বৃক্ষের অপর পার্শ্ব হইতে ভল্লুকের দুই হস্ত ধরিয়া বৃক্ষে ঘর্ষণ করিতে আরম্ভ করিলেন। তাহাতে ভল্লুক মৃতপ্রায় হইলে, ছাড়িয়া দিলেন। ভল্লুক মৃতকল্প ভূপতিত দেখিয়া, তিনি প্রস্থান করিতে উদ্যোগী হইলেন। এমন সময়, ভল্লুক উঠিয়া দ্রুতবেগে দৌড়িয়া গিয়া রামজয়ের পৃষ্ঠে নখাঘাত করিল, তখন পৃষ্ঠে শোণিত ধারা বিগলিত দেখিয়া ক্রোধভরে লৌহদণ্ড প্রহারে তিনি ভল্লুকের প্রাণ বিনাশ করিলেন। ভল্লুকের পাঁচটী নখাঘাতের ক্ষতে প্রায় মাসাধিক কষ্ট পাইয়া পরে আরোগ্য লাভ করেন।
বীরসিংহের বাস্ত্তবাটীর ভূস্বামী, রামজয়কে নিষ্কর ব্রহ্মোত্তর করিয়া দিবেন মানস করিয়াছিলেন; কিন্তু রামজয় দান গ্রহণ করিতে সম্মত