বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
ভগবতীদেবী।

যথাসময়ে আবশ্যক মত, দুইবেলা আহার পাইয়া তিনি পুনর্জন্ম জ্ঞান করিলেন। এই শুভ ঘটনার দ্বারা, তাঁহার যে কেবল আহারের ক্লেশ দূর হইল এরূপ নহে, সিংহ মহাশয়ের সহায়তায় মাসিক আট টাকা বেতনে একস্থানে নিযুক্ত হইলেন। ঠাকুরদাসের আট টাকা মাহিয়ানা হইয়াছে শুনিয়া তদীয় জননী দুর্গাদেবীর আহ্লাদের সীমা রহিল না।” এই সময়ে তর্কভূষণ মহাশয় ঠাকুরদাসের বিবাহ দিলেন।

 ইহার কিয়ৎকাল পরে, একদিন রামজয়, ঠাকুরদাসকে বলিলেন, “তুমি এক্ষণে কর্ম্মক্ষম হইরাছ, ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করিবেন, আমি ঈশ্বরের আরাধনাভিলাষী; পুনর্ব্বার তীর্থ-পর্যটনে যাত্রা করিতেছি।” এই কথা শুনিয়া ঠাকুরদাস অত্যন্ত দুঃখিত হইলেন; তিনি এ সংবাদ বাটীতে লিখিলেন।

 ভগবতী দেবী যৌবনসীমায় পদার্পণ করিবার পূর্ব্বেই শ্বশুরালয়ে আগমন করিলেন। মাতুলালয়ের স্বচ্ছল সংসারের সুখস্বচ্ছন্দতায় আর তাঁহার মন পরিতৃপ্ত করিতে পারিল না। তিনি স্বীয় পতির আত্মসম্মানকে এতদূর মূল্যবান্ মনে করিলেন, যে সন্তুষ্টচিত্তে মাতুলগৃহ ত্যাগ করিয়া পতিগৃহে নিতান্ত সাংসারিক অস্বচ্ছলতার মধ্যে বাস করিয়াও সুখে দিন যাপন করিতে লাগিলেন। সেই সময়ে, তিনি অনন্যমনে পতির চিত্তানুবর্ত্তন করিতেন, প্রত্যহ স্বহস্তে গৃহমার্জ্জনা, মৃত্তিকা দ্বারা উপলেপন, গৃহোপকরণ ভোজন পাত্রাদির সংস্কার, রন্ধন, যথাসময়ে ভোজ্য সামগ্রীর দান ও সাবধানে সমস্ত দ্রব্য রক্ষা করিতেন। তিরস্কার বাক্য মুখে আনিতেন না। গুরুজনের নিকটে উচ্চ আসনে উপবেশন বা উচ্চকথা কহিতেন না। সকলের প্রতি অনুকুলতা দেখাই-