তেন, আলস্যশূন্য হইয়া কালযাপন করিতেন, কখনও অতিহাস্য বা অপরিষ্কৃত স্থানে বাস করিতেন না এবং কখনও ক্রোধের বশীভূত হইতেন না। শ্বশুর ও শ্বশ্রূজনের প্রতি ভক্তি দেখাইতেন, দেবর, ননন্দার প্রতি মায়া মমতা প্রদর্শন এবং পরিবারস্থ লোকদিগকে বিনয়নম্র ব্যবহারে পরিতুষ্ট করিতেন। তিনি অতি অল্প বয়সেই এই সমুদায় সুগৃহিণীর ধর্ম্ম অবগত হইয়াছিলেন। এক কথায় বলিতে গেলে, তিনি সেই দুঃখদারিদ্র্যময় সংসারে দগ্ধ হৃদয়ের শান্তিদাত্রী, নিরাশয়ের আশাদায়িনী, বিপদে বন্ধু, কৌতুকে সখী, রন্ধনে পাচিকা, ভোজনে জননী, সেবায় পরিচারিকাস্বরূপা ছিলেন। পতিসেবায়, দয়া দাক্ষিণ্যে ও গুরুভক্তিতে তিনি এক আদর্শ হিন্দুরমণী ছিলেন।
শুনিয়াছি, মহারাজ দুষ্মন্তের পত্নী শকুন্তলা পতিগৃহে গমন কালে মহর্ষি কণ্ব তাঁহাকে উপদেশ দিয়াছিলেন:—
“শুশ্রূযস্ব গুরূন কুরুপ্রিয়সপীবৃত্তিং সপত্নীজনে
ভর্ত্তুবিপ্রকৃতাপি রোষণতয়া মাস্ম প্রতীপং গমঃ।
ভূয়িষ্ঠং ভব দক্ষিণা পরিজনে ভোগেস্বনুৎসেকিনী।
ষাস্ত্যেবং গৃহিণীপদং যুবতয়ো বামা: কুলস্যাধয়ঃ॥”
তুমি এস্থান হইতে পতিগৃহে গমন করিয়া শ্বশ্রূ প্রভৃতি গুরুজনকে সেবা করিবে, সপত্নীজনের প্রতি প্রিয়সখীর ন্যায় ব্যবহার করিবে, স্বামী অবমাননা করিলেও ক্রোধবশতঃ তাঁহার প্রতিকূলাচরণ করিও না। পরিজনের প্রতি অত্যন্ত অনুকূল হইবে। অভ্যুদয়ে অহঙ্কৃত হইও না। যুবতীগণ এইরূপে গৃহিণী পদ প্রাপ্ত হইয়া থাকে; প্রতিকূলচারিণীগণ গৃহের যন্ত্রণাস্বরূপ। জানি না, ভগবতী দেবীরও পতিগৃহে আগমন