সময়ে, তাঁহার মাতুল মহাত্মা রাধামোহন বিদ্যাভূষণ মহাশয়, তাঁহাকে এরূপ কোন সারবান্ উপদেশ দিয়াছিলেন কি না।
ভগবতী দেবীর বাল্যকালের সেবাধর্ম্ম, দীনতা, তেজস্বিতা প্রভৃতি সদগুণ সমূহ যৌবনকালীন অপরাপর ইন্দ্রিয়গণের স্ফূর্ত্তির সঙ্গে সঙ্গে যেন নূতন মূর্ত্তি পরিগ্রহ করিয়াছিল। সাংসারিক কোন বিষয়ের অস্বচ্ছলতা হইলে, তিনি প্রাণান্তেও প্রতিবেশীর দ্বারস্থ হইতেন না। তিনি যেন মনে করিতেন, হিতৈষিতা বা কল্যাণ, প্রকৃতির উদ্দেশ্য সত্য; কিন্তু যতবার উপকৃত হইব, ততবার উপকারীর নিকট আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিতে হইবে এবং এই আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা চিরজীবন অক্ষুণ্ণ রাখিতে হইবে। যিনি ভূয়িষ্ঠপরিমাণে অন্যের হিতসাধন করিতে পারেন, তিনিই যথার্থ গরীয়ান্। যে কখন অন্যের উপকার করে না, কেবল অপরের হিতাস্পদ হয়, তাহার ন্যায় নিকৃষ্টস্বভাব জঘন্যকর্ম্মা লোক আর জগতে নাই; অন্যের নিকট উপকার গ্রহণ করা, অথচ অন্যের উপকার না করাই বিশ্বমধ্যে অতিহীন কর্ম্ম। উপকারীর প্রত্যুপকার করা প্রায় জগৎ মধ্যে ঘটিয়া উঠে না, কিন্তু উপকৃত হইলে, তৃতীয় জনের হিতসাধনার দ্বারা তাহা পূর্ণমাত্রায়, বিন্দু বিসর্গ পর্য্যন্ত পরিশোধ করিতেই হইবে। জীবনের ঋণ মুক্তহস্তে পরিশোধ করিয়া যাওয়াই সর্ব্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ধর্ম্ম।
কিন্তু প্রতিবেশীদিগের মধ্যে কেহ সদিচ্ছাপ্রণোদিত হইয়া কোন দ্রব্য দিলে, ভগবতী দেবী তাহা কখনও প্রত্যাখ্যান করিলেন না, দেবপ্রসাদ ভাবিয়া সাদরে গ্রহণ করিতেন। ফলতঃ তিনি প্রতিবেশীদিগের সহিত অচ্ছেদ্য প্রীতিবন্ধনে আবদ্ধ থাকিতে সতত যত্ন করিতেন। তাঁহার শ্বশ্রূদেবীর সহিত কাহারও কখন মনোমালিন্য ঘটিবার উপক্রম হইলে, তিনি