বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিবাহ ও বধূজীবন।
২৯

তাহাকে অতি বিনীত ভাবে বলিতেন, “মা, প্রভাতে উঠিয়া যাহাদিগের মুখ দেখিতে হইবে বা যাহাদিগকে মুখ দেখাইতে হইবে, তাহাদিগের সামান্য ত্রুটি তুচ্ছজ্ঞান করিয়া তাহাদিগের সহিত সদ্ভাব রক্ষা করিতে যদি সতত আপনি যত্নবতী না হন, তাহা হইলে লোকে আপনার দেবীচরিত্রে নিশ্চয়ই দোষারোপ করিবে। আর মা, আপনি দিবারাত্রি আমাদের কত দৌরাত্ম্য সহ্য করিতেছেন, প্রতিবেশীদিগের একটী দৌরাত্ম্য কি আপনি সহ্য করিতে পারিবেন না?” দুর্গাদেবী বধূমাতার মুখনিঃসৃত এই সকল অমৃতময় বাক্য শ্রবণ করিয়া কোন প্রতিবাদ করিতেন না। ঈষৎ হাস্য করিয়া হৃষ্টচিত্তে ভগবতী দেবীকে আশীর্ব্বাদ করিতেন।

 পল্লীর সমবয়স্কা রমণীগণ তাঁহার সদ্ব্যবহারে ও স্নেহে এতদূর মুগ্ধ হইয়াছিলেন যে, প্রত্যেকে মনে করিতেন, তিনি প্রত্যেককেই অধিক ভালবাসেন। তিনি তাহাদের সুখদুঃখের সঙ্গিনী ছিলেন। তাঁহাদের মধ্যে কেহু পীড়িত হইলে, তিনি অনন্যমনে তাঁহার শুশ্রূষা করিতেন। মধ্যে মধ্যে পথ্যাদি গৃহ হইতে রন্ধন করিয়া লইয়া যাইতেন। তাঁহার স্নেহ ও মমতার এমনই এক আকর্ষণী শক্তি ছিল যে, গৃহপালিত জীবজন্তু পর্য্যন্ত তাঁহাকে দেখিলে, আনন্দে অধীর হইয়া পড়িত, তিনি তাহাদের যথাবিধি সেবা করিয়া পরম সন্তোষ লাভ করিতেন। ফলতঃ কি মহাপুরুষ, কি মহতী নারী সকলেই আপনাকে তৃণ হইতেও লঘু মনে করেন।

“তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মানদেন কীর্ত্তনীয়ঃ সদা হরিঃ॥”

এই মহাবাক্য তাঁহাদের হৃদয়ের মূল মন্ত্র। আত্মাভিমান তাঁহাদের কিছুই থাকে না। তাঁহারা মনে করেন, এ বিশ্ব তাঁহাদের এবং