বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
ভগবতীদেবী।

তাঁহারা এ বিশ্বের; সুতরাং সমস্ত প্রাণিজগৎ তাঁহাদের প্রেমের বিষয়ীভূত। সেই জন্য, ইহ সংসারে তাঁহাদের দ্বেষ্য কেহই থাকে না, সকলেই প্রিয় হয়।

 ভগবতী দেবী মনস্বিতা ও সাধুতা বিষয়ে একজন অগ্রগণ্য স্ত্রীলোক ছিলেন। রূপলাবণ্য এবং বিবিধি সদ্‌গুণে গৃহের শ্রীস্বরূপা ছিলেন, ফলতঃ তাঁহার চূর্ণকুন্তলের মুক্তকেশপাশ দেখিলে, স্নেহপাশ বলিয়াই মনে হইত। আকর্ণবিশ্রান্ত নেত্রদ্বয় কারুণ্যপূর্ণ ছিল, মুখমণ্ডলে যেন তাঁহার বিশ্বব্যাপী হৃদয়ের বিশ্বপ্রেম ফুটিয়া উঠিয়াছিল, তাঁহার ওষ্ঠদ্বয় দেখিলে, সত্য ও অমৃতের উৎস বলিয়াই মনে হইত, তাঁহার বাহুদ্বয় যেন সদা সেবাব্রতনিরত বলিয়া মনে হইত, তাঁহার সরলতাময় সৌন্দর্য্যে তরলতার চিহ্নমাত্রও ছিল না, মাতৃভাবে পূর্ণ ছিল। এক কথায় বলিতে গেলে, তাঁহাকে দেখিলে মনে হইত, যেন সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা স্বর্গ হইতে মর্ত্ত্যে অবতীর্ণ হইয়াছেন, এবং তাঁহার চরণারবিন্দে মস্তক অবলুণ্ঠিত করিয়া তাঁহার পদধুলিই গ্রহণ করিতে ইচ্ছা হইত।

 শাস্ত্রে গৃহস্থাশ্রমের শ্রেষ্ঠতা প্রতিপাদিত হইয়াছে। মনু বলেন:

যথা বায়ুং সমাশ্রিত্য বর্ত্তন্তে সর্ব্বজম্ভবঃ।
তথা গৃহস্থমাশ্রিত্য বর্ত্তস্তে সর্ব্ব আশ্রমাঃ॥
যস্মাৎ ত্রয়োঽপ্যাশ্রমিণোজ্ঞানেনান্নেন চান্ম্হম্।
গৃহস্থেনৈব ধার্য্যন্তে তন্মাজ্যেষ্ঠাশ্রমো গৃহী॥

যেমন প্রাণবায়ুকে আশ্রয় করিয়া সমুদায় প্রাণী জীবিত রহিয়াছে, সেইরূপ গৃহস্থকে আশ্রয় করিয়া অপরাপর আশ্রমবাসিগণ জীবন ধারণ করিতেছেন। ব্রহ্মচারী,বানপ্রস্থ ও ভিক্ষু-তিন আশ্রমীই প্রতিদিন গৃহস্থ-