বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিবাহ ও বধূজীবন।
৩১

কর্ত্তক বেদার্থব্যাখ্যান ও অন্নদানাদি দ্বারা প্রতিপালিত হইতেছেন, এ কারণ গৃহস্থাশ্রম —— সকল আশ্রম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। রমণীগণ এই সর্ব্বাশ্রমশ্রেষ্ঠ গৃহস্থাশ্রমের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। পরম কারুণিক পরমেশ্বর লজ্জা, বিনয়, নম্রতা ও সুশীলতা ইত্যাদি সদ্‌গুণে ভূষিত করিয়া ললনাগণকে সৃজন করিয়াছেন। তাঁহারা সমাজের লক্ষ্মীস্বরূপা এবং দুঃখদারিদ্র্যপূর্ণ ও রোগশোকতাপময় সংসারে, সতত শান্তির অমৃতধারা বর্ষণ করিয়া থাকেন। শাস্ত্রকারেরা এ নিমিত্ত সুস্পষ্ট উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন, “শ্রীতে ও স্ত্রীতে কোনও প্রভেদ নাই।” ফলতঃ রমণীগণ মুর্ত্তমতী দেবীর ন্যায় ইহ সংসারে স্বর্গীয় সুখ বিতরণ করেন। সংসার ক্ষেত্রে ভারতরমণী পতিসেবায়, পতিভক্তিতে, সন্তান প্রতিপালনে, দয়াদাক্ষিণ্যে, গুরুভক্তিতে সর্ব্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠা। হিন্দু সমাজের সহিত হিন্দুরম শিক্ষায়, দীক্ষায়, সুখে, দুঃখে শিরায় শিরায় ওতপ্রোত ভাবে বিজড়িত। আতিথ্য, দেবসেবা, শ্রাদ্ধ, তর্পণ প্রভৃতি হিন্দুশাস্ত্রকথিত কর্ম্মকাণ্ডগুলির ন্যায়, রমণররত্নের কীর্ত্তিকলাপও হিন্দুসমাজের অঙ্গীভূত।

 হিন্দুশাস্ত্রে কথিত আছে, ধর্ম্মচর্য্যার জন্য ভার্য‍্যার প্রয়োজন। হিন্দু রমণীগণ স্বামীর সহিত সর্ব্বথা ধর্ম্মকার্য্যে লিপ্ত থাকেন। ধর্ম্মপরিণীতা বনিতা যজ্ঞস্থানে উপস্থিত না হইলে গৃহস্থের যজ্ঞসমাপ্তি হয় না। এইজন্য তাঁহারা সহধর্ম্মিণী নামে অভিহিতা হইয়া থাকেন। সংসাররূপ মহাযজ্ঞ সুসম্পন্ন করিতে হইলে, রমণীগণের ন্যায় অধিষ্ঠাত্রী দেবীরই প্রয়োজন। রঘুকুলতিলক গুণাভিরাম রামচন্দ্র সীতারূপিনী অধিষ্ঠাত্রী দেবীর পাতিব্রত্য গুণে, অরণ্যবাসেও স্বর্গসুখ উপভোগ করিয়াছিলেন। মহাবীর পাণ্ডু-