বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিবাহ ও বধূজীবন।
৩৩

ভগবান্ মনু তাঁহার ধর্ম্মশাস্ত্রে স্ত্রীজাতির প্রতি বিশেষ সমাদর প্রদর্শন করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন:—

"যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ।”

স্ত্রীগণ যেখানে সমাদৃত, সম্মানিত ও পূজাপ্রাপ্ত হন, সেখানে দেবতারাও সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন। ভগবতী দেবীর বিবিধ সদগুণে মুগ্ধ হইয়া পরিবারস্থ সকলে সতত তাঁহার প্রতি পরম সমাদর ও যত্ন প্রদর্শন করিতেন। বোধ হয়. সেইজন্যই দেবাশীর্ব্বাদে, দিন দিন ঠাকুরদাসের দরিদ্র সংসারের শ্রীবৃদ্ধি হইতে লাগিল।

 পুরাকালে আর্য্যেরাও স্ত্রীজাতির সম্যক আদর ও গৌরব করিয়া গিয়াছেন। ধর্ম্মপুত্র যুধিষ্ঠির আপনার কিঙ্করীকে ‘ভদ্রে’ বলিয়া সম্বোধন করিতেন। পরস্পরের প্রতি কুশল প্রশ্ন জিজ্ঞাসার সময় অগ্রে স্ত্রীলোকের বিষয় জিজ্ঞাসিত হইত। ভরত বনবাসী রামচন্দ্রের নিকট উপস্থিত হইলে, রামচন্দ্র তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, “তুমি স্ত্রীলোকের প্রতি সম্মান দেখাইয়া থাক ত?” ধৃতরাষ্ট্রও এইরূপ এক সময়ে যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, “রাজ্যের দুঃখিনী অঙ্গনারা ত উত্তমরূপে রক্ষিত হইয়াছে? রাজবাটীর স্ত্রীলোকদিগের প্রতি সম্মান প্রদর্শিত হয় ত?” যে ব্যক্তি স্ত্রীলোকদিগের দ্রব্য অপহরণ, কি বিবাহিতা বা অবিবাহিতা নারীর বিশুদ্ধ চরিত্রে দোষারোপ করিত, সে গুরুদণ্ডে দণ্ডিত হইত। আবহমান কাল হইতেই ভারতে নারীপূজা প্রচলিত হইয়া আসিতেছে। এবং এই নারীপূজাই ভারতের এক অক্ষয়কীর্ত্তি।

 ভগবতী দেবীর বধূজীবনের সেবাধর্ম্মের একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এস্থলে উল্লেখ করিয়া আমরা এই অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি করিব।