একদিন দিবা অবসান প্রায়, এমন সময়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শুষ্ককণ্ঠ এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ গৃহে অভ্যাগত হইলেন। সেদিন গৃহে অত্যন্ত অস্বচ্ছল অবস্থা। রাত্রে সন্তানগণ অর্দ্ধাশনে এবং পরদিন অনশনে দিবাযাপন করিবে, এইরূপই ব্যবস্থা হইয়া রহিয়াছে। ক্ষুধাতুর তৃষ্ণাতুর ব্রাহ্মণ অতিথি গৃহে আগত উপায় কি? কিছুক্ষণ পরে ভগবতীর শ্বশ্রূদেবী দরবিগলিতনেত্রে করযোড়ে অতিথিকে নিবেদন করিলেন, “মহাশয়, আমি অতি হতভাগিনী। আমি গৃহস্থ আশ্রমে থাকিয়া গার্হস্থ্যধর্ম্ম পালন করিতে পারিলাম না। অভ্যাগতের পরিচর্য্যায় বিমুখ হইলাম। আমার অরণ্যবাসই শ্রেয়ঃ। আমার সন্ততিগণ অনশনে নিশীযাপন করিবে, এইরূপ অবস্থা, আমি কিরূপ করিয়া অতিথি সৎকার করিব ভাবিয়া আকুল হইতেছি। দয়া করিয়া আমার অপরাধ গ্রহণ করিবেন না।” ভগবতী দেবী অন্তরাল হইতে এই কথা শুনিয়া অশ্রু সম্বরণ করিতে পারিলেন না। শ্বশ্রূদেবী সমীপে ধীরে ধীরে গমন করিয়া মৃদুস্বরে বলিলেন,—“মা, এরূপ ক্ষুধাতুর ও তৃষ্ণাতুর অতিথিকে কখন প্রত্যাখ্যান করা হইবে না। যে কোন উপায়ে ইহার সৎকার করিতেই হইবে। আপনি ইহাকে বসিতে আসন ও পাদ্যার্ঘ দিউন।” এই কথা বলিয়া তিনি হস্তে পরিহিত একগাছি পিত্তলের পৈঁছা উন্মোচন করিয়া একজন প্রতিবেশিনীর নিকট বন্ধক রাখিলেন এবং তদ্বিনিময়ে একসের তণ্ডুল গ্রহণ করিলেন। পরে সেই তণ্ডুলের একপুয়া নিকটস্থ কোন মুদীর দোকানে প্রেরণ করিয়া একপুয়া দাউল আনাইলেন। পরিশেষে, সেই দাউল ভাতে ভাত রাঁধিয়া অতিথি সৎকার করিলেন। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ভগবতী দেবীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও পরিচর্য্যায় এরূপ সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন যে
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৪৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪
ভগবতী দেবী।