বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিবাহ ও বধূজীবন।
৩৫

সেই ‘ডালভাতে ভাত’ পরম পরিতোষপূর্ব্বক ভোজন করিলেন। ব্রাহ্মণের ভোজনান্তে, ভগবতী শ্বশুদেবীকে বলিলেন,—“মা, আমাদের ত একখানি কুটীর মাত্র সম্বল। এখন কোন প্রতিবেশীর গৃহে ইহার শয়নের ব্যবস্থা করিয়া দিয়া আসুন।” শ্বশ্রূদেবীও বধূর কথামত কার্য্য করিলেন। পরদিবস প্রভাতে শয্যা পরিত্যাগপূর্ব্বক প্রাতঃকৃত্য সমাপন করিয়া ব্রাহ্মণ দুর্গাদেবীর গৃহপ্রাঙ্গণে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং উপবীত দ্বারা হস্তদ্বয় সংবদ্ধ করিয়া সূর্য্যমণ্ডলের দিকে কৃতাঞ্জলিপুটে বলিতে লাগিলেন, “হে সবিতৃদেব! তুমি জগলোচন। জগতের ধর্ম্ম, অধর্ম্ম, পাপ, পুণ্য সমস্তই তুমি নিরীক্ষণ করিতেছ। এই বালিকাবধূর হৃদয়ে সেবাধর্ম্ম, দয়াদাক্ষিণ্য, স্নেহ, মমতা, অন্তঃসলিলা ফল্গুনদীর হ্যায় স্বতঃ প্রবাহিত হইতেছে, এ সমুদয় বিষয় তুমি সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত আছ, ইনি যেন ধনে বংশে শ্রীবৃদ্ধি লাভ করেন।” এই কথা বলিয়া ব্রাহ্মণ তথা হইতে প্রস্থান করিলেন।

 আহা! সামান্য দরিদ্রের পর্ণকুটীরে যে আতিথেয়তা, উদারতা, যে সহানুভূতি ও প্রেম প্রত্যক্ষ করা যায়, তাহার তুলনা অতুল ঐশ্বর্য্যপূর্ণ রাজপ্রাসাদেও নাই! এখনও এই হতভাগ্য দেশের অতি সামান্য নিভৃত কুটীরে নীরবে প্রত্যহ যে মহান্ পবিত্র কর্ম্মের অনুষ্ঠান হইতেছে, তাহার তুলনা কোথায়? ঐশ্বর্য্যের আগার ইন্দ্রভবনতুল্য ধনীর ভোগবিলাসপূর্ণ উত্তঙ্গ সৌধমালা দরিদ্রের শূন্য পর্ণকুটীরের দরিদ্রের বিমল পুণ্যময় জ্যোতিতে চিরনিষ্প্রভ হইয়া রহিয়াছে। পর্ণকুটীরে ঐশ্বর্য্যের কিছুই নাই সত্য, কিন্তু সেখানে হৃদয় আছে, দুঃখীর দুঃখে সহানুভূতি প্রকাশ ও দুঃখ মোচন করিবার জন্য সরল