প্রাণে চেষ্টা করিবার লোক আছে। হৃদয়বান্ দরিদ্র ব্যক্তি তাহার জীর্ণ-পর্ণকুটীরে ক্ষণেকের মধ্যে যে মহৎ পুণ্যানুষ্ঠান করিয়া থাকেন, তাহা যে ধনীর ঐশ্বর্য্যগর্ব্বে গর্ব্বিত সুবৃহৎ অট্টালিকাতে নাই, কে না তাহা স্বীকার করিবেন? ভারতীয় আর্য্যপর্ণকুটীরের অতুল মাহাত্ম্যে আমরা এখনও জীবিত রহিয়াছি!
প্রয়াগের পর্ণকুটীরে বন্যফলমূলাশী কৌপীনধারী ভরদ্বাজ মুনি স্বীয় তপঃপ্রভাবে রামমাতা কৌশল্যা, রামানুজ ভরত, শত্রুঘ্ন ও অযোধ্যাবাসিগণের সৎকারের জন্য এই মর্ত্যে যে বিপুল স্বর্গীয় সুখ ও ঐশ্বর্য্যের অবতারণা করিয়াছিলেন, কুরুক্ষেত্রনিবাসী উৎবৃত্তিপরায়ণ, অনশনক্লিষ্ট দরিদ্র ব্রাহ্মণের পর্ণকুটীরে সামান্য শক্ত প্রদানে যে মহা যজ্ঞের অনুষ্ঠান হইয়াছিল, যে পবিত্র যজ্ঞভূমিতে লুণ্ঠিতকায় নকুলের অর্দ্ধাঙ্গ দিব্যকাঞ্চনময় রূপ ধারণ করিয়াছিল, যে যজ্ঞের অতুল মহিমা মহারাজ যুধিষ্ঠিরের যজ্ঞকেও নিষ্প্রভ করিয়াছিল, বজ্রনির্ঘোষে মহারাজ যুধিষ্ঠিরের বিরাট সভায় নকুল যে যজ্ঞের মহিমা কীর্ত্তন করিয়া সভাস্থ পুণ্য ও সকলকে স্তম্ভিত করিয়াছিল, ভারতভাগ্যে এখনও সেই তপঃপ্রভাব বিলুপ্ত হয় নাই। দরিদ্রের পর্ণকুটীর মাহাত্ম্য এখনও ভারতকে সজীব রাখিয়াছে!