ধর্ম্মজ্ঞানের ত্রিধারা যাঁহাতে সম্মিলিত দেখিতে পাই, তাঁহাকে বিরাট মহাপুরুষ বলিয়া বন্দনা করি। ইঁহাদের ক্রিয়াকলাপে যেরূপ অমানুষিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, জন্ম বৃত্তান্তও সেইরূপ অসাধারণ ও অশ্রুতপূর্ব্ব ঘটনাপূর্ণ বলিয়া প্রচারিত হইয়া থাকে। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মবৃত্তান্তও এইরূপ কিছু বিচিত্রতাপূর্ণ বলিয়া জনশ্রুতি আছে এবং তাহা অমূলক নহে।
আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি ঠাকুরদাস কার্য্যক্ষম হইলে, রামজয় পুনরায় তীর্থপর্য্যটনে বহির্গত হন। তিনি দ্বারকা, জ্বালামুখী, বদরিকাশ্রম ও অন্য নানা তীর্থস্থান পর্য্যটন করিয়া পরিশেষে কেদারনাথ পাহাড়ে অবস্থিতি করেন। দীর্ঘকালের মধ্যে তিনি তাঁহার পরিবারবর্গের কোন সংবাদ রাখেন নাই। রামজয় এক দিবস (কেদারনাথ পাহাড়ে) নিশীথ সময়ে স্বপ্ন দেখেন যে, “রামজয়, তুমি বৃথা কেন ভ্রমণ করিতেছ? স্বদেশে যাও, তোমার বংশে এক মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তিনি তোমার বংশের মুখ উজ্জ্বল করিবেন। তিনি সাক্ষাৎ দয়ার সাগর ও অদ্বিতীয় পণ্ডিত হইয়া, নিরন্তর বিদ্যাদান ও নিরুপায় লোকদিগের ভরণ পোষণাদির ব্যয় নির্ব্বাহ দ্বারা তোমার বংশে অনন্তকালস্থায়িনী কীর্ত্তি সংস্থাপন করিবেন।” রায়জয়, পাহাড়ের মধ্যে নিশীথ সময়ে এরূপ অসম্ভব স্বপ্নদর্শন করিয়া চিন্তা করিতে লাগিলেন যে, আমি বহুদিন অতীত হইল, সংসারাশ্রমে জলাঞ্জলি দিয়া নিভৃত স্থানে ঈশ্বরারাধনায় মনপ্রাণ সমর্পণ করিয়া কালাতিপাত করিতেছি। এক্ষণে তাহারা কি করিতেছে ও কে আছে না আছে, তাহাও জানি না। এবম্বিধ চিন্তায় নিমগ্ন হইয়া পুনর্ব্বার নিদ্রাভিভূত হইলে, পুনরায় স্বপ্নে দেখিলেন, কে যেন বলিতেছে, “রামজয়, তুমি পরিবারগণের