বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিদ্যাসাগরের জন্ম।
৩৯

নিকট প্রস্থান কর, আর বিলম্ব করিও না, তোমার প্রতি ঈশ্বর সদয় হইয়াছেন।” নিদ্রাভঙ্গ হইলে, নানাপ্রকার ভাবিয়া চিন্তিয়া, রামজয় স্বদেশাভিমুখে যাত্রা করিলেন। অবিরত ৬ মাস পদব্রজে গমন করিয়া, বীরসিংহে সমুপস্থিত হইয়া শুনিলেন, তাঁহার পুত্র ঠাকুরদাস কলিকাতায় বিষয় কর্ম্মে নিযুক্ত থাকিয়া সংসার প্রতিপালন করিতেছেন। কনিষ্ঠ পুত্র কালিদাসের বিবাহকর্ম্ম সম্পন্ন হইয়াছে এবং জ্যেষ্ঠপুত্র ঠাকুরদাসের পত্নী ভগবতী দেবী গর্ভবতী হইয়া অবধি উন্মাদগ্রস্তা হইয়াছেন। অনন্তর রামজয় দেশে আগমন করিয়াছেন এ সংবাদ কলিকাতায় পুত্রদ্বয়ের নিকট প্রেরিত হইল। সংবাদ প্রাপ্তিমাত্রেই বহুকালের পর পিতৃপদ সন্দর্শনার্থে ঠাকুরদাস ও কালিদাস কলিকাতা হইতে বীরসিংহে আগমন করিলেন।

 ১৭৪২ শকাব্দ। অর্থাৎ সন ১২২৭ সালের ১২ই আশ্বিন মঙ্গলবার দিবা দ্বিপ্রহরের সময় বীরশিশু ঈশ্বরচন্দ্র বীরসিংহ ক্ষুদ্র পল্লীতে দরিদ্র ঠাকুর- দাসের পর্ণকুটীরে ভূমিষ্ঠ হইলেন। স্মৃতিকাগৃহের দ্বারে সমাগত পল্লী-বাসিনীগণের মাঙ্গল্য শঙ্খধ্বনি ও হুলুধ্বনিতে ক্ষুদ্র পল্লীখানি কম্পান্বিত হইল। বার্তাবহ সমীরণ প্রতিধ্বনি বহন করিয়া দ্বারে দ্বারে মহাপুরুষের জন্মবার্তা বিঘোষিত করিলেন। একপ্রকার মাঙ্গলা অভ্যর্থনার মধ্যে ঈশ্বর-চন্দ্র প্রথম সূর্যোর আলোক দেখিলেন। তীর্থক্ষেত্র হইতে সমাগত পিতা-মহ রামজয় বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়, নাড়ীচ্ছেদনের পূর্ব্বে আল্লার দ্বারা ভূমিষ্ঠ বালকের জিহ্বার নিয়ে কয়েকটা কথা লিখিয়া, তাঁহার পত্নী দুর্গাদেবীকে বলিলেন, – “লেখার নিমিত্ত শিশুটী কিয়ৎক্ষণ মাতৃদুগ্ধ পান করিতে পায় নাই; বিশেষতঃ কোমল জিহ্বায় আমার কঠোর হস্ত দেওয়ায়, এই বালক কিছুদিন তোলা হইবে। এই বালক ক্ষণজন্মা,