বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিদ্যাসাগরের জন্ম ৷
৪১

দুর্গাদেবী তাঁহার কোষ্ঠী দেখিতে দিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ভবানন্দ গণনা করিয়া বলিলেন, ইহার কোন রোগ নাই; ঈশ্বরানুগৃহীত কোন মহা-পুরুষ ইহার গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তাঁহার তেজঃ প্রভাবে এরূপ হইতেছে, কোনরূপ ঔষধ সেবন করাইবেন না। গর্ভস্থ বালক ভূমিষ্ঠ হইলেই ইনি রোগমুক্তা হইবেন। ভবানন্দ ভট্টাচার্য্য মহাশয় যাহা বলিয়া-ছিলেন তাহাই হইল। প্রসবের পরক্ষণেই ভগবতী দেবীর আর কোন উন্মাদচিহ্ন পরিলক্ষিত হইল না। এ কারণ, দুর্গাদেবী সর্ব্বদা ভবানন্দ ভট্টাচার্য্যের গণনার ভূয়সী প্রশংসা করিতেন।

 ঈশ্বরচন্দ্র ভূমিষ্ঠ হইবার কিয়ৎক্ষণ পূর্ব্বে, ঠাকুরদাস দ্রব্যাদি ক্রয় করিবার জন্য অতি সন্নিহিত কুমারগঞ্জের হাটে গিয়াছিলেন। তথা হইতে বাটীতে আসিতেছেন দেখিয়া, রামজয় কিছু অগ্রসর হইয়া বলিলেন, “ঠাকুরদাস, অ্য আমাদের একটী এঁড়ে বাছুর হইয়াছে।” তৎকালে গৃহে একটী গাভীও গর্ভিনী হইয়াছিল। ঠাকুরদাস মনে করিলেন, গর্ভবতী গাভীটী প্রসব করিয়াছে। তিনি বাটী প্রবেশ করিয়া গোশালায় গমন করিলেন, কিন্তু দেখিলেন গাভী প্রসব করে নাই। তখন রামজয় ঈষৎ হাস্যবদনে স্মৃতিকাগৃহে প্রবেশ করিয়া ঈশ্বরচন্দ্রকে দেখাইয়া বলিলেন, “এছেলে এঁড়ের মত বড় একগুয়ে হইবে। ইহার প্রতিজ্ঞা হিমাদ্রির ন্যায় অটল অচল রহিবে এবং প্রতিজ্ঞার পরাক্রমে চতুর্দিক কম্পিত হইবে, একারণ এঁড়ে বাছুর বলিলাম। ইহার দ্বারা উত্তরকালে দেশের বিশেষরূপ উপকার হইবে। তুমি ইহাকে সামান্য এঁড়ে জ্ঞান করিবে না, এ নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করিয়া সর্ব্বত্র জয়ী হইবে, এই বালক ক্ষণজন্মা, প্রতিদ্বন্দ্বিহীন ও দয়ার অবতার হইবে, ইহার যশো-