গীতিতে সমগ্র বঙ্গভূমি ধ্বনিত হইবে, এই বালক ভূমিষ্ঠ হওয়ায় আমার বংশে চিরস্থায়ী কীর্ত্তিলাভ হইল। আজ আমার স্বপ্নদর্শন সত্য হইল।”
সত্ত্বগুণসম্পন্ন ঈশ্বরপরায়ণ সাধু মহাপুরুষগণ সময়ে সময়ে ভগবৎ-প্রেমে উন্মত্ত হইয়া আত্মহারা হইয়া পড়েন, তখন তাঁহাদের হৃদয়শায়ী ভূতভাবন ভগবান্ ভূতকল্যাণের জন্য তাঁহাদের মুখ দিয়া যাহা বলান, তাঁহারাও ভূতাবিষ্টের ন্যায় তাহাই বলেন। এই সকল সারবান্ উক্তিই মহাপুরুষের মহাবাক্য নামে খ্যাত। তীর্থ পর্য্যটনকারী, ধর্ম্মনিষ্ঠ, ঈশ্বর-পরায়ণ রামজয়, বারশিশু ঈশ্বরচন্দ্রকে সন্দর্শন করিয়াই বুঝিতে পারিয়া-ছিলেন,ঈশ্বরানুগৃহীত কোন মহাপুরুষ তাঁহার বংশে জন্ম গ্রহণ করিলেন। সেইজন্য, তিনি ভগবৎ প্রেমে আত্মহারা হইয়া সন্তোজাত শিশুর সম্বন্ধে যে সকল ভাবী উক্তি বলিয়াছিলেন, সেই সকল উক্তিই উত্তরকালে ঈশ্বর-চন্দ্রের জীবনে ভবিষ্যদ্বাণী রূপে পরিণত হইয়াছিল।
ঈশ্বরচন্দ্রের ভূমিষ্ঠ হইবার কিছুক্ষণ পরে গ্রহবিপ্রশ্রেষ্ঠ কেনারাম আচার্য্য আসিয়া বালকের ঠিকুজী প্রস্তুত করিলেন। ঠিকুজী প্রস্তুত করি-বার কালে, ফল বিচার করিয়া কেনারাম বিস্মিত হইলেন। কোষ্ঠী গণনায় ভবিষ্যৎ জীবনের আভাষ পাওয়া যায়। আচার্য্য গণনার দ্বারা ব্যক্ত করিলেন,—"এই বালক ক্ষণজন্মা; উচ্চ গ্রহ সকল প্রত্যক্ষ পরিদৃশ্যমান হইতেছে, এরূপ ফল কাহারও কোষ্ঠীতে অদ্যাপি দেখিতে পাই নাই। এ বালক জগদ্বিখ্যাত নৃপতুল্য ও দয়াময় হইবে, এবং দীর্ঘায়ু হইয়া নিরন্তর ধন ও বিদ্যাদান করিয়া, সাধারণের দুঃখনিবারণ করিবে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যশালিনী, জ্ঞান-ভক্তি-প্রসবিনী ভূকৈলাস ভারত-ভূমি পুণ্যের লীলাক্ষেত্র। এই এই পুণ্যক্ষেত্রে কত মহাত্মাই জন্মগ্রহণ