বলিয়া গ্রহণ করে। ফলতঃ বাল্যকালে যাহা একবার শিক্ষা করা যায়, তাহা চিরকাল স্মৃতিপটে দেদীপ্যমান থাকে। অতএব এ সময়ে শিশুর পুরোভাগে এরূপ সকল আদর্শ রাখা উচিত, যাহাতে তাহার সুকুমার মনোবৃত্তিনিচয় সজীব হয় এবং উন্নত ও পবিত্র চরিত্র লাভ করিতে তাহাকে শক্তিশালী করে; এই সময়ে হৃদয়ে জ্ঞানের যে রেখাপাত হয়, উত্তরকালে তাহাই অধিকতর রঞ্জিত ও বর্দ্ধিত হয় মাত্র। অতএব শিশু যেরূপ পরিবার মধ্যে থাকিয়া লালিত পালিত হয়, তাহার শিক্ষা ও চিত্তবৃত্তির বিকাশও যে তদনুরূপ হইবে, তদ্বিষয়ে অণুমাত্র সংশয় নাই।
লর্ড ব্রোহাম বলেন, শিশু আঠার হইতে ত্রিশ মাসের মধ্যে বহির্জগতের বিষয়, তাহার স্বকীয় ক্ষমতা, অন্যান্য বস্তুর প্রকৃতি, এমন কি আপনার ও অপরের মন সম্বন্ধে এত অধিক শিক্ষা প্রাপ্ত হয় যে, তাহার অবশিষ্ট সমগ্র জীবনে সে আর তত শিক্ষা লাভ করে না। এই সময়ে শিশু চিরজীবনের শিক্ষার বীজ সংগ্রহ করে। সুতরাং অতি শৈশব কাল হইতেই শিশুর সুশিক্ষার বিধান করা অতীব প্রয়োজন। জনৈক মহিলা কোন্ সময়ে তাঁহার চারি বৎসর বয়ঃক্রম সন্তানের শিক্ষার সূত্রপাত করিবেন, এই কথা যেমন ধর্ম্মযাজককে জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি বলিলেন, “ভদ্রে! এখনও যদি শিশুর শিক্ষা আরম্ভ করিয়া না থাক, তবে এই চারি বৎসর বৃথা অতিবাহিত হইয়াছে।” জনক জননী ঈশ্বরের প্রতিনিধিরূপে সংসারে শিশুর সন্তানগণের রক্ষণাবেক্ষণ করিতেছেন। জননীর উদার বা অনুদায় প্রকৃতি, তাঁহার কুসংস্কার তমসাচ্ছন্ন অথবা দিব্য জ্ঞানালোক পরিস্ফুট প্রকৃতি নিচয়ই শিশুর জীবন পথের পরিচালক। সুতরাং মাতার এক একটা সদনুষ্ঠান বা অসদনুষ্ঠান,