তাঁহার আচার, ব্যবহার, রীতি, নীতি, স্বভাব, চরিত্রের উপর শিশুর বর্ত্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গলামঙ্গল নির্ভর করিতেছে।
পরিবার মধ্যে ধর্ম্ম ও সাধুতা রক্ষা করিবার ভার রমণীর হস্তে। জননী যদি ধর্ম্মপরায়ণা ও বিবেকশালিনী হন, তাঁহার অন্তরে যদি সাধুতা লাভের ইচ্ছা বলবতী থাকে, তাহা হইলে সন্তানগণও সেই সকল সদ্গুণ লাভ করে। স্নেহময়ী মাতার অধরনিঃসৃত সুমিষ্ট অনুশাসন বাক্য সন্তানের স্মৃতিপটে নিবদ্ধ হইয়া থাকে। বিদ্যালয়ের শত শিক্ষকের উপদেশে যে শিক্ষায় লাভ না হয়, একটা সুশিক্ষিতা, সচ্চরিত্রা সংযতচিত্তা, বিবেকপরায়ণা মাতার ক্রোড়ে বর্দ্ধিত হইলে, সন্তানদিগের সে শিক্ষা লাভ হইয়া থাকে। মহৎ লোকের জীবনচরিত পাঠে অবগত হওয়া যায় যে, জগতে যত মহাজন যে যে সদ্গুণের জন্য প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়া গিয়াছেন, অধিকাংশ স্থলে, এরূপ পরিলক্ষিত হয় যে, তাঁহাদের জননীগণ এই সকল চরিত্র গুণে গুণবতী ছিলেন।
ত্রিভুবনবিজয়ী দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু নিরতিশয় হরিবিদ্বেষী ছিলেন। হরির নাম শুনিলেই তিনি ক্রোধে অধীর হইতেন। তাঁহার রাজ্যের চতুঃসীমাতেও কেহ হরিনাম উচ্চারণ করিতে পারিত না। এমন হরিদ্বেষী গৃহেও, হরিভক্তিপরায়ণা, রাজমহিষী কয়াধূর ভক্তির ফলে, প্রহ্লাদের আবির্ভাব দেখিতে পাওয়া যায়। পঞ্চমবর্ষীয় শিশু এতদূর ধর্ম্মপরায়ণতা ও ভগবানের প্রতি এত আত্ম নির্ভরের ভাব কোথায় শিক্ষা করিল? সকলেই জানেন, যে প্রেম কয়াধূর হৃদয়ে, অন্তঃসলিলা ফল্গু নদীর ন্যায় প্রবাহিত হইতেছিল, তাহাই পঞ্চমবর্ষীয় শিশু প্রহ্লাদের হৃদয়ে ভক্তিমন্দাকিনীতে পরিণত হইয়াছিল।