উত্তানপাদ রাজার পুত্র ধ্রুব, বিমাতা সুরুচির দুর্ব্বাক্য বাণে বিদ্ধ হইলে পর জননীর নিকটে উপস্থিত হইয়া অতি কাতর ভাবে ক্রন্দন করিতে করিতে সমস্ত বিষয় নিবেদন করিলে, ধর্ম্মশীলা, সহিষ্ণু ও বিবেকপরায়ণা জননী সুনীতি, যে উপদেশ দিয়াছিলেন, তাহা অতি মহৎ, অতি উচ্চ। তিনি তাঁহাকে ক্রোড়ে লইয়া সান্ত্বনা করিয়া বলিয়া ছিলেন “বৎস! কাঁদিও না; এই পৃথিবীতে মানুষ নিজ কার্য্যের গুণেই বড় হয়। যদি বিমাতার কথায় মনে অত্যন্ত ক্লেশ হইয়া থাকে, পুণ্যলাভ করিবার জন্য যত্ন কর; পুণ্যলাভ করিলে, সকল ফল লাভ হইবে। বিনয়ী, সত্যবাদী, ধর্ম্মপরায়ণ ও পরহিতব্রতী হও; জল যেমন নিম্নাভিমুখেই ধাবমান হয়, এই সকল গুণবিশিষ্ট হইলে, পৃথিবীর সর্ব্বসম্পদ অনায়াসেই তোমাকে আশ্রয় করিবে। সর্ব্বদুঃখহারী ভগবান্ আমাদের মঙ্গল করিবেন, তুমি তাঁহার শরণ লও।” এরূপ ক্ষমাশীলা, পুণ্যবতী জননীর সন্তান বলিয়াই, পঞ্চমবর্ষীয় শিশু ধ্রুবের হৃদয় পুণ্যের পবিত্র ও বিমল জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হইয়াছিল; ধ্রুব কঠোর তপঃপ্রভাবে, পদ্মপলাশলোচন হরির কৃপা লাভে সমর্থ হইয়াছিলেন।
থিওডোর পার্কার স্বীয় জীবনচরিতে লিথিয়া গিয়াছেন যে, তিনি যখন পঞ্চমবর্ষীয় বালক, তখন একদিন তাঁহার পিতার সঙ্গে বাড়ীর বহির্ভাগে কিয়দ্দূরে গমন করিয়া গৃহে জননীর নিকটে একাকী প্রত্যাবর্ত্তন করিতেছিলেন, পথে দেখিলেন, একটী কূর্ম্মশিশুকে অপর কতিপয় শিশু প্রহার করিবার চেষ্টা করিতেছে, তিনিও বালস্বভাব বশতঃ প্রহার করিবার জন্য যষ্টি উত্তোলন করিলেন, কিন্তু কে যেন তাঁহাকে হঠাৎ নিষেধ করিল। তিনি মাতার নিকটে তৎক্ষণাৎ দৌড়িয়া আসিয়া