জিজ্ঞাসা করিলেন, “মা! কুর্ম্মণিশুকে প্রহার করিতে উদ্যত হইলে, আমাকে কে নিষেধ করিল?” জননী তাঁহাকে ক্রোড়ে করিয়া মুখচুম্বন করিলেন এবং বলিলেন, “বৎস, লোকে উহাকে বিবেক বলে, কিন্তু আমি বলি, উহা ঈশ্বরের বাণী। তিনি তোমাকে অসৎ কার্য্য হইতে নিরস্ত করিলেন। তুমি যদি এইরূপ সর্ব্বদা তাঁহার নিষেধাজ্ঞা প্রতিপালন করিয়া চল, তাহা হইলে সর্ব্বদা সৎপথে বিচরণ করিতে পারিবে।” পার্কার বলিয়াছেন, ঐ দিনের ঘটনাটী ও মাতার ঐ উপদেশবাক্যটী চিরকাল তাঁহার হৃদয়ে জাগরূক থাকিয়া, তাঁহাকে ধর্ম্মপথে বিচরণ করিতে উৎসাহিত করিয়াছিল।
শতবর্ষাধিক অতীত হইল, কলিকাতার সুপ্রিম কোর্টে স্যার উইলিয়ম জোন্স নামক একজন বিচক্ষণ বিচারপতি ছিলেন। জোন্স যখন তিন বৎসরের শিশু, তখন তাঁহার পিতৃবিয়োগ হয়। পিতার মৃত্যু হইলে, তাঁহার সুশিক্ষিতা মাতার উপরই তাঁহার শিক্ষার ভার ন্যস্ত হয়, তাঁহার জননী অসাধারণবিদ্যাবতী রমণী ছিলেন। অতি শৈশবকাল হইতেই মাতার যত্নে পাঠের প্রতি জোন্সের রুচি জন্মিয়াছিল। তিনি যখন দুই তিন বৎসরের বালক, তখন কোন নূতন বিষয় দেখিয়া, তাহার বিবরণ জিজ্ঞাসা করিলেই, মাতা বলিতেন, “পড়, পড়িলেই জানিতে পারিবে।” জননীর মুখে এই কথা বারম্বার শ্রবণ করায়, শিশু জোন্সের বিদ্যাশিক্ষার প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ জন্মিয়াছিল। তাহার এই অনুরাগ পঠদ্দশাতেই বর্দ্ধিত হইয়াছিল। এই সময়েই তিনি বিদালয়ের নির্দ্দিষ্ট পাঠ ব্যতীত অনেক বিষয় শিক্ষা করিতেন। পঠদ্দশাতেই তিনি গ্রীক ও লাটিন এবং স্বকীয় যত্নে ভিন্ন দেশীয় চারি পাঁচটী ভাষা শিক্ষা করিয়াছিলেন।