বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শিশুচর্য্যা ও সন্তানশিক্ষা।
৫১

জননীর নিকটই শৈশবকালে তিনি বাধ্যতা গুণ শিক্ষা করিয়াছিলেন। শৈশবের আশ্রয়স্থল জননী ক্রোড়েই তিনি ধর্ম্মে বীর, নীতিতে অটল, অধ্যবসায়ে সুদৃঢ় ও উৎসাহে জ্বলন্ত বহ্নিশিখাবৎ গঠিত হইয়াছিলেন।

 আমেরিকার ভূতপূর্ব্ব অস্থায়ী প্রেসিডেণ্ট এডাম বলেন, “শৈশবেআমি মানবজীবনের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ সুখের নিদান সুশিক্ষিতা ও সম্পূর্ণরূপে সন্তানপালনে সমর্থা জননী লাভ করিয়াছিলাম। এবং তাঁহার নিকট যে ধর্ম্ম ও নীতিশিক্ষা করিয়াছিলাম, তাহা আমার চিরজীবন সঙ্গী হইয়া রহিয়াছে।”

 শিশু বিদ্যাসাগর সকলের চক্ষের অগোচরে, জননীর স্নেহময় বক্ষে, শুক্লপক্ষের শশিকলার ন্যায় অনুদিন বর্দ্ধিত হইতে লাগিলেন। তাঁহার ভাগ্যে এডামের ন্যায় বিদ্যাবতী জননীলাভ ঘটে নাই। কারণ, বহু শতাব্দী ধরিয়া ভারতে স্ত্রীজাতি অজ্ঞানান্ধকারে আচ্ছন্ন ছিলেন। দেশে স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন ছিল না। কুমারসম্ভব ও বিক্রমোর্ব্বশী নাটক প্রভৃতি গ্রন্থে এই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, পুরাকালে স্ত্রীলোকেরা ভূর্জপত্রে লিখিতেন। তাঁহারা নানা বিষয় শিক্ষা পাইতেন। সংস্কৃত দশকুমারচরিত নামক গ্রন্থেও দেখিতে পাওয়া যায় যে, স্ত্রীলোকেরা বিদেশীয় ভাষা, চিত্রবিদ্যা, পুষ্পবিদ্যা, নৃত্যবিদ্যা, সঙ্গীত, তর্কবিদ্যা, গণনা, বাক্যবিন্যাস, সৌগন্ধ ও মিষ্টান্ন প্রস্তুত করণ বিদ্যা, জীবিকানির্ব্বাহক অর্থকরী প্রমুখ বিদ্যা শিক্ষা করিতেন। কিন্তু হায়! যে ভারতবর্ষে স্ত্রীশিক্ষার আলোচনা এক সময়ে প্রকৃষ্টরূপে প্রবর্তিত হইয়াছিল; যে ভারতে, দেবযানী, লোপামুদ্রা, বিশ্ববারা, রোমশা, ও বাক্ প্রভৃতি বিদুষী বনিতারা বেদমন্ত্র রচনা করিয়াছিলেন; যে ভারতে, ভাস্করাচার্য্যের কন্যা লীলাবতী জ্যোতিষ