ভারত ও পৌরাণিক উপাখ্যান সমূহ আদর্শ হিন্দুগৃহে প্রতিদিন ধ্বনিত হইত এবং এই সকল ধর্ম্মানুষ্ঠানই দেশের ধর্ম্মভাব ও নৈতিকভাব জাগরিত রাখিয়াছিল।
তখনকার জননীগণ রত্নাকরের মুক্তি, হরিশ্চন্দ্রের স্বার্থত্যাগ, যুধিষ্ঠিরের ন্যায়নিষ্ঠা, ভীষ্মের শরশয্যাতে শয়ন, অর্জ্জুনের রণকৌশল ও বাহুবল, রামচন্দ্রের পিতৃভক্তি, ভ্রাতৃবৎসলতা, লোকরঞ্জনের জন্য স্বার্থত্যাগ, লক্ষ্মণের অগ্রজানুরাগ, সতী সাবিত্রীর পতিভক্তি প্রভৃতি উপাখ্যান গুলি সন্তানশিক্ষার প্রকৃষ্ট উপাদান বলিয়া মনে করিতেন। তখনকার সন্তানগণ মাতা, মাতামহী, পিতামহী প্রভৃতির মুখের অন্নে অভ্যাগতের পরিচর্য্যা, অপরিচিত রুগ্নব্যক্তির সেবা শুশ্রূষা, বিপন্নকে আশ্রয়দান, ক্ষুধাতুরকে অন্নদান করিতে দেখিয়া পরোপকার ও সেবাধর্ম্ম শিক্ষা করিত। গ্রামের সামান্য লোকদিগের সহিতও ধনশালী সম্ভ্রান্ত পরিবারের অল্পবয়স্ক বালকদিগেরও এক একটা সম্বন্ধ থাকিত, কেহ কাহাকে ঘৃণার চক্ষে দেখিত না। এইরূপে তাহারা দয়াশীল, হৃদয়বান্ ও মিষ্টভাষী হইতে শিক্ষা পাইত। পূর্ব্বে আদর্শপরিবারে বার মাসে তের পার্ব্বণ ছিল, ধর্ম্মানুষ্ঠান ছিল, গৃহের সর্ব্ববিধ কর্ম্মের মধ্য দিয়া সন্তানগণ সুশিক্ষা লাভ করিত। দেশে এই সকল সুভাব ও সদুদ্দেশ্য বিদ্যমান ছিল বলিয়াই দেশ প্রাণহীন বা হৃদয়বিহীন হয় নাই। তখনকার জননীগণ সন্তানশিক্ষা সম্বন্ধে বর্ত্তমান শিক্ষিতা জননীগণের ন্যায় বেন, গাল্টন, হারবার্ট স্পেন্সার, স্মাইল, কারপেণ্টার, ফাউলার[১] প্রভৃতি পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণের মন্তব্য
- ↑ Bain's Education as a science, Gulton's Heriditary Genius, Education by Herbert Spencer, Smile's Character, Human Physio-