বিবিধ উপাখ্যানের অন্তর্গত উপদেশাবলী সেই সময়ে প্রত্যেক আদর্শ হিন্দুগৃহে মুখে মুখে গীত হইত এবং সন্তানশিক্ষার উপাদান বলিয়া বিবেচিত হইত।
কূলপাবন সৎপুত্র পিতামাতাকে মৃদুল বাক্য শ্রবণ করাইবে; সর্ব্বদাই তাঁহাদিগের প্রিয়ানুষ্ঠান করিবে এবং নিয়ত পিতামাতার আজ্ঞাবহ হইয়া থাকিবে। যদি গৃহস্থ আপনার হিতকামনা করে, তাহা হইলে, সে কদাপি মাতাপিতার নিকট ঔদ্ধত্য প্রকাশ বা পরিহাস করিবে না। তাঁহাদিগের সমীপে তর্জ্জন গর্জ্জন বা কুবচন প্রয়োগও করিবে না: মাতাপিতাকে দেখিলেই সসম্ভ্রমে গাত্রোত্থান পূর্ব্বক প্রণাম করিবে; পরে তাঁহাদের আজ্ঞা ব্যতিরেকে আসনে উপবিষ্ট হইবে না; এবং তাহাদিগের আদেশ পালনে সতত উন্মুখ হইযা থাকিবে। যে ব্যক্তি বিদ্যামদে বা ধনমদে মত্ত হইয়া মাতাপিতাকে অবহেলা করে, সে সর্ব্বধর্ম্ম বহিষ্কৃত হইয়া ঘোর নরকে গমন করে। যদি প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, তথাপি গৃহস্থগণ মাতা, পিতা, পুত্র, ভার্য্যা, অতিথি ও সহোদর ইহাদিগকে ন দিয়া কদাপি স্বয়ং ভোজন করিবে না। যে ব্যক্তি মাতা পিতা ভ্রাতা বন্ধুবান্ধব প্রভৃতি স্বজনগণকে না দিয়া স্বকীয় উ্রদর পূরণার্থে ভোজন করে, সে ইহলোকে অতীব নিন্দিত হয়, এবং পরলোকেও ঘোর নরকে পতিত হইয়া থাকে। গৃহস্থগণের উর্ত্তব্য এই যে, ভার্য্যার রক্ষণাবেক্ষণ করিবে; পুত্রগণকে বিদ্যা শিক্ষা করাইবে; স্বজন ও বন্ধুবান্ধবগণের ভরণপোষণ করিবে। ইহাই তাহাদিগের সনাতন ধর্ম্ম। জননী দ্বারা দেহের পুষ্টিসাধন হয়, জন্মদাতা জনক হইতে দেহের উৎপত্তি হয়, এবং স্বজনগণ প্রীতিবশত শিক্ষা প্রদান করিয়া থাকে; সুতরাং যে ব্যক্তি ইহাঁদিগকে পরিত্যাগ করে, সে নরাধম (তাহাতে সন্দেহ নাই।) মহেশানি! গুরুজন ও আত্মীয়-স্বজনগণের নিমিত্ত শত শত কষ্ট স্বীকার করিয়াও নিরন্তর শক্তি অনুসারে ইহাঁদের সকলের সন্তোষ সাধন করিবে। ইহাই সনাতন ধর্ম্ম। যে ব্যক্তি ব্রহ্মনিষ্ঠ ও সত্যপ্রতিজ্ঞ হইয়া কর্ম্ম করে পৃথ্বীতলে সেই মহাপুরুষই ধন্য, সেই মহাপুরুষই কৃতী এবং সেই মহাপুরুষই পরমার্থ জ্ঞান লাভে সমর্থ হইয়া থাকে। ভার্য্যা যদি পতিব্রতা ও সাধ্বী হয়, তাহা হইলে গৃহস্থ কদাপি