তাঁহার চরিত্রের এই এক বিশেষত্ব দেখিতে পাওয়া যায় যে, তিনি অসত্যকে সত্যরূপে প্রতীয়মান করিতে অতিশয় ঘৃণা বোধ করিতেন। অনেক জননীকে এরূপ দেখা যায় যে, রোরুদ্যমান শিশু সন্তানগণকে শান্ত করিবার মানসে, কিম্বা অবাধ্য সন্তানদিগকে বাধ্য করিবার অভি-
ভাবে পরিত্যাগ করিবে। চেষ্টা অবস্থার অনুগত এবং ক্রিয়া সময়ের অনুগত; অতএব অবস্থা ও সময় অনুসারেই কর্ম্মানুষ্ঠান করিবে। গৃহীরা যোগক্ষেমে নিরত থাকিবে; দক্ষ ও ধার্ম্মিক হইবে; বন্ধুগণের প্রতি সৌহার্দ্দ প্রদর্শন করিবে; (সর্ব্বজন সমক্ষে) বিশেষতঃ মাননীয় জনসমূহের নিকট পরিমিতভাষী হইবে; তাঁহাদের নিকট অপরিমিত হাস্যও করিবে না। গৃহস্থগণ জিতেন্দ্রিয়, প্রসন্নচিত্ত, দৃঢ়ব্রত, অপ্রমত্ত ও দীর্ঘদশী হইবে; অসৎ বিষয় চিন্তা না করিয়া কেবল সদ্বিষয়েরই আলোচনা করিবে; ইন্দ্রিয়বৃত্তি বিষয় অর্থাৎ ভোগ্য বস্তু সমুদায় বিচার না করিয়া ভোগ করিবে না। ধীর ব্যক্তি সতত সত্য, মৃদু, প্রিয় ও হিতকর বাক্য প্রয়োগ করিবে এবং কদাপি আত্মশ্লাঘা ও পরনিন্দা করিবে না। যে ব্যক্তি জলাশয় খনন, বৃক্ষরোপণ, পথিমধ্যে বিশ্রামগৃহ নির্ম্মাণ ও সেতু নির্ম্মাণ করিয়া সাধারণের ব্যবহারের উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা ও উৎসর্গ করে, সেই ব্যক্তিই (পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করিতে পারে। মাতাপিতা যাহার প্রতি সন্তুষ্ট, সুহৃদগণ যাহাতে অনুরক্ত, মানবগণ যাহার যশোগান করিয়া থাকে, সেই ব্যক্তিই (পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করে। সত্যই যাহার সনাতন ব্রত, যে ব্যক্তি সর্ব্বতোভাবে দীন দরিদ্রের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে, কাম ও ক্রোধ যাহার বর্ণীভূত, সেই ব্যক্তিই (পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি * * * ও পরদ্রব্যে নিস্পৃহ, যে ব্যক্তি দম্ভ ও মাৎসর্য্যবিহীন, সেই ব্যক্তিই (পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি রণে ভীত হয় না, সমরেও পরান্মুখ হয় না, অথবা যে ব্যক্তি ধর্ম্মযুদ্ধে দেহ পরিত্যাগ করে, সেই ব্যক্তিই (পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করিতে পারে। যাহার আত্মা সন্দিগ্ধ নহে, অথচ যে ব্যক্তি শ্রদ্ধাযুক্ত ও শৈবাচারে নিরত থাকিয়া মদীয় শাসনের বশবর্ত্তী হয়, সেই ব্যক্তিই