প্রায়ে তাঁহারা তাহাদিগকে ‘জুজুর ভয়’ দেখাইয়া থাকেন। এরূপ ভয় প্রদর্শন যে সন্তানের পক্ষে মহা অনিষ্টের কারণ, সে বিষয়ে অণুমাত্র সংশয় নাই। ইহার দ্বারা শিশুর বল, বিক্রম ও আত্মরক্ষার ভাব সকলই একেবারে বিনষ্ট হইয়া যায়।
কোন কোন জননীকে এরূপ দেখা যায় যে, শিশু যদি তাহার প্রিয় বস্তু পাইবার জন্য ক্রন্দন করে, তবে তাহাকে ‘আকাশের চাঁদ’ প্রভৃতির প্রলোভন দেখাইয়া শান্ত করেন। এইরূপ ব্যবহারে শিশুরা অতি সহজেই অন্য সকলকে অবিশ্বাস করিতে শিক্ষা করে। এবং ধীরে ধীরে মিথ্যা, শঠতা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি তাহাদের সুকোমল বাল্যহৃদয়ে প্রবেশ লাভ করিয়া কালক্রমে বদ্ধমূল হইতে থাকে।
অনেক মাতার এরূপ স্বভাব আছে যে, তাঁহারা সন্তানগণের নিকট সংসারের অবস্থা গোপন করিতে প্রয়াস পান, এরূপ আত্মগোপন নির্ব্বদ্ধিতার পরিচয়। কারণ শিশুদিগের অন্যায় প্রার্থনায় তাঁহাদিগকেই জ্বালাতন হইতে হয়।
ভগবতী দেবী সন্তানদিগকে কখন ‘জুজুর ভয়’ দেখান, কিম্বা তাহাদিগকে শান্ত করিবার মানসে ‘আকাশের চাঁদ’ ধরিয়া দিবার কথা বলিতেন না। তিনি এরূপ ক্ষেত্রে সন্তানের যতদূর সম্ভব প্রার্থনা রক্ষা করিতেন এবং স্নেহ ও মমতার দ্বারা পরিচালিত হইয়া তাহাদিগকে শান্ত
(পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করে। যে ব্যক্তি তত্ত্বজ্ঞান-সম্পন্ন হইয়া কি শত্রু কি মিত্র সকলের প্রতি সমদৃষ্টি রাখিয়া কেবল লোকযাত্রা নির্ব্বাহের নিমিত্ত কর্ম্মানুষ্ঠান করে, সেই ব্যক্তিই (পুণ্যফলে) ত্রিভুবন জয় করিতে পারে।
মহানির্ব্বাণতন্ত্রম্—অষ্টম উল্লাসঃ।