বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬০
ভগবতীদেবী।

করিতেন। কঠোর শাসন দ্বারা তাহাদিগের কোমল বৃত্তিগুলির মূলে আঘাত করিতে তিনি কখনই প্রয়াস পাইতেন না। ইহা তাঁহার একেবারেই প্রকৃতিবিরুদ্ধ ছিল। অবস্থায় যাহা সঙ্কুলান হয়, তাহার অতিরিক্ত প্রার্থনা করিলে, সংসারের দরিদ্র অবস্থা স্মরণ করাইয়া এবং বুঝাইয়া দিয়া তাহাদিগকে নিরস্ত করিতেন।

 সৎকার্য্যে উৎসাহ দান, তাঁহার চরিত্রের আর এক বিশেষত্ব। শিশু সন্তানদিগের দ্বারা অনুষ্ঠিত সৎকার্য্য ও সদ্ব্যবহার দেখিলে, তিনি আনন্দ প্রকাশ করিতেন এবং উৎসাহ দিতেন। একদা বালক বিদ্যাসাগর সমবয়স্ক বালকদিগের সহিত ক্রীড়া করিতেছিলেন। ক্রীড়াশেষে দেখিতে পাইলেন, একজন সঙ্গী ছিন্নবস্ত্র পরিধান করিয়া রহিয়াছে। তিনি তাহাকে আপনার বস্ত্রখানি গ্রহণ করিতে বলিয়া স্বয়ং তাহার ছিন্নবস্ত্রখানি পরিধান করিলেন। গৃহে সমাগত হইলে, মাতা জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার বস্ত্র কোথায়? বালক উত্তরে সত্য ব্যাপার প্রকাশ করিলেন। মাতা সন্তুষ্ট হইয়া বলিলেন, “এই ত ভাল ছেলের কাজ; আমি চরকায় সূতা কাটিয়া তোমায় আর একখানি নূতন কাপড় প্রস্তুত করাইয়া দিব।” সন্তানগণের এইরূপ সদনুষ্ঠান বা পরোপকার প্রবৃত্তি দেখিলে, তাহাদিগের প্রতি আদর ও সস্নেহ ভাব প্রদর্শন করা তিনি অবশ্য কর্তব্য বলিয়া মনে করিতেন। কেবল তাহাই নহে, সেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি লক্ষ্য রাখিতেন যে, বালক বালিকার জীবনে তিনি যে সকল সৎপ্রবৃত্তি পরিস্ফুট দেখিতে ইচ্ছা করেন, তাহা ধীরে ধীরে তাহাদের হৃদয়ে বিকাশপ্রাপ্ত হইতেছে কি না।

 স্নেহ ভালবাসা বর্জ্জিত কঠোর শাসন যে কোমলমতি শিশুর পক্ষে