অমুক অমুক শস্যের শীষে শুঁয়া আছে, আর কখন এই সকল শষ্যের শীষ চিবাইও না”।
তিনি লোকের আত্মবিশ্বাসের উপর কখন কোন প্রকার আঘাত করিতেন না। তিনি যেন এই আত্মবিশ্বাসের মধ্যে অমিত শক্তি, অমিত বল, কত প্রাণ, কত বীর্য্য, কত ওজ, কত অমৃত নিহিত রহিয়াছে বলিয়া মনে করিতেন। অবশ্য সময়ে সময়ে এই আত্মবিশ্বাসের সহায়তা করায় শিশুদিগের দুই একটী ভুল ভ্রান্তি ঘটিত। কিন্তু তিনি বলিতেন যে—“এই ভুলটাই যে একটা মহা শিক্ষা।”
লোকের দোষ অপেক্ষা গুণের উপরই তাঁহার অধিক লক্ষ্য ছিল এবং গুণের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়া তাহার দোষকে গুণে পরিণত করিতে সতত চেষ্টা করিতেন। যেমন পাপীকে ‘পাপী’ ‘পাপী’ বলিলে, তাহার উদ্ধার অসম্ভব। তাহার ভিতর যে মহাশক্তি আছে,সেই দিকে তাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া দিতে পারিলেই তাহার পক্ষে মঙ্গল হয়, সন্তানশিক্ষা সম্বন্ধেও ঠিক সেই ভাবেই তিনি কার্য্য করিতেন। কারণ তিনি যেন মনে করিতেন, জগতে পাপ তাপ নাই, রোগ শোক নাই, যদি কিছু পাপ জগতে থাকে তাহা এই ভয়। যে কোন কার্য্য তোমার ভিতরে শক্তির উদ্রেক করিয়া দেয়, তাহাই পুণ্য; আর যাহাতে তোমার শরীর মনকে দুর্ব্বল করে, তাহাই দুর্ব্বলতা, মৃত্যু বা মহাপাপ। সুতরাং মৃত্যুর সহায়তা না করিয়া জীবনদান করাই প্রকৃত শিক্ষা। শিক্ষার অর্থ—ধ্বংসসাধন নহে; প্রকৃত শিক্ষার অর্থ—গঠন। সুশিক্ষায় অন্তর্নিহিত শক্তির উপচয়ই হইয়া থাকে: শক্তির অপচয়ের কোন আশঙ্কাই থাকে না।
বিদ্যাসাগর বাল্যকালে অতিশয় দুষ্ট ছিলেন। অনেক প্রতিভাবান্