বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৪
ভগবতীদেবী।

পিতা ঠাকুরদাস তাঁহাকে মধ্যে মধ্যে প্রহার পর্য্যন্ত করিতেন,এবং তাঁহার নাম রাখিয়াছিলেন— ‘ঘাড় কেঁদো’। কিন্তু ভগবতী দেবী হৃদয়ের স্নেহ মমতার দ্বারাই তাঁহাকে সংযত করিতে চেষ্টা করিতেন। তিনি যেন জানিতেন, প্রগাঢ় সন্তানবাৎসল্যই শিশুকে আপনার হইতে আপনার করিয়া দেয়। তখন এমন কোন কার্য্যই নাই, যাহা তাহার দ্বারা করাইয়া লওয়া যায় না। শিশু যেমন ভালবাসার অধীন, এমন আর কেহই নহে। স্নেহ, মমতা ও বাৎসল্যের শাসনই প্রকৃত শাসন। ভগবতী দেবী বলিতেন, “সন্তান বালকবুদ্ধিবশতঃ কোন অন্যায় কার্য্য করিলে পর, মাতা যদি মুখ আঁধার করিয়া তাহার সহিত কিছুক্ষণ আলাপ বন্ধ রাখেন, আর সন্তান মাতাকে প্রসন্ন করিবার জন্য তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটিয়া না রেড়ায়, তাহা হইলে, সে মাতাই বা কিরূপ, তাঁহার ভালবাসাই বা কিরূপ, আর তাঁহার মায়ামমতাই বা কিরূপ, কিছুই ত বুঝিতে পারিলাম না।” ভগবতী দেবীর এই উক্তি হইতেই পাঠকগণ তাঁহার সন্তানবাৎসল্যের প্রগাঢ়তা অনুভব করিবেন।

 সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ তাঁহার চরিত্রের আর এক বিশেষ লক্ষণ ছিল। সহানুভূতিই সর্ব্ববিধ উন্নতির নিত্য সহচর এবং দায়িত্বজ্ঞানই মানুষকে সর্ব্বোচ্চ উন্নতিসোপানে উন্নীত করিতে পারে, ইহাই যেন তাঁহার ধারণা ছিল। তিনি সন্তানগণকে বলিতেন, “আপনি ভাল কাপড় পরার চেয়ে, পরকে পরাইতে পারিলে, অধিক সুখ হয়। নিজে ভাল খাওয়া অপেক্ষা পরকে ভাল খাওয়াইতে পারিলে, অধিক আনন্দ হয়।” এইরূপে তিনি সন্তানগণের হৃদয়ে মনুষ্য জীবনের উচ্চতর ও গভীরতর দায়িত্ব সকল অনুভব করাইয়া দিতেন।