স্বীকার করি মানবের সদ্গুণাবলী স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সদ্গুণাবলীর বিকাশ শিক্ষাসাপেক্ষ। শিক্ষারূপ ইন্ধন না পাইলে, জ্ঞান ও বিদ্যাগ্নি প্রজ্বলিত হয় না। ক্রিয়ার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত ভিন্ন, অন্য উপায়ে মানুষ মানুষকে শিক্ষা দিতে অসমর্থ। যদি কেহ সম্পূর্ণরূপে আপনাকে বিকাশ করিতে সমর্থ হন, তবেই তাঁহার শিক্ষা দিবারও ক্ষমতা জন্মে। কিন্তু বিশুদ্ধ বাক্যপ্রয়োগ দ্বারা শিক্ষাদানে কেহ কখনই কৃতকার্য্য হন না। যিনি গ্রহণ করিতে সমর্থ, তিনিই কেবল শিক্ষা দিতে পারদর্শী, এবং গ্রহণ করিবার শক্তি না থাকিলে, কেহই শিক্ষিত হইতেও পারে না। ছাত্র শিক্ষকের মনোভাব এবং বুদ্ধিবিশ্বাসের সমতলবর্ত্তী না হইলে, শিক্ষার আদান প্রদান কোন মতে সম্ভাবিত নহে। কারণ, শিক্ষাকালে পরস্পরের চিত্তসংযোগ বা বিমিশ্রণ ঘটিয়া থাকে। এইরূপ চিত্তসন্নিপাতের সংঘটন হইলেই, কেবল প্রকৃত শিক্ষা কার্য্যোপযোগিনী হয় এবং প্রতিকূল দৈবপাত বা অসৎসংসর্গ হেতু তাহার উপকারিতা কোন কালেই সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয় না। ভগবতী দেবীর এই সকল শিক্ষাদীক্ষা সকল সন্তানগণই সমান পরিমাণে লাভ করিয়াছেন। কিন্তু তাঁহার উপদেশের সুফল আমরা বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জীবনেই যে অধিক পরিমাণে পরিস্ফুট দেখিতে পাই, তাহারও কারণ এই। এ সম্বন্ধে অপর দিকে মহাকবি ভবভূতির গভীরভাবপূর্ণ নিম্নলিখিত শ্লোকটী আমাদের মনে পড়ে:—
"বিতরতি গুরুঃ প্রাজ্ঞে বিদ্যাং যথৈব তথা জড়ে
ন চ খলু তয়োজ্ঞানে শক্তিং করোত্যপহন্তি বা।