বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ।


বিদ্যাসাগরের বিদ্যাশিক্ষা।

 তদানীন্তন কালে পাঠশালায় শিশুদিগের বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ হইত। কিছুদিন পাঠশালে লিখিয়া ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের সন্তানেরা টোলে ব্যাকরণ পড়িতে আরম্ভ করিতেন। এবং যাঁহারা সন্তানদিগকে রাজকার্য্য শিক্ষা দিতে প্রয়াস পাইতেন, তাঁহারা তাহাদিগকে পারসী পড়াইতেন। যাহারা জমিদারী সরকারে কর্ম্ম করিতে বা বিষয়-বাণিজ্যে নিযুক্ত হইতে ইচ্ছা করিত, তাহারাই শেষ পর্য্যন্ত গুরুমহাশয়ের পাঠশালে পাঠাভ্যাসে নিরত থাকিত।

 পাঠশালে পাঠনার রীতি এই ছিল যে, বালকেরা প্রথমে মাটীতে খড়ি দিয়া বর্ণপরিচয় করিত। তৎপরে তালপত্রে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, যুক্তবর্ণ, শতকিয়া, কড়ানিয়া, বুড়কিয়া প্রভৃতি লিখিত। শেষে তালপত্র হইতে কদলীপত্রে উন্নীত হইত। তখন তেরিজ, জমাখরচ, শুভঙ্করী, কাঠাকালী, বিঘাকালী, প্রভৃতি শিথিত। সর্ব্বশেষে কাগজে উন্নীত হইয়া চিঠিপত্র লিখিতে শিখিত। সে সময়ে শিক্ষাপ্রণালীর উৎকর্ষের মধ্যে এই ছিল যে, পাঠশালে শিক্ষিত বালকগণ মানসাঙ্ক সম্বন্ধে আশ্চর্য্য পারদর্শিতা দেখাইত। মুখে মুখে জটিল অঙ্কের সমাধান করিয়া দিতে পারিত। চক্ষের নিমিষে বড় বড় হিসাব পরিষ্কার করিয়া ফেলিত।