হস্তাক্ষর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুমহাশয়দিগের বিশেষ লক্ষ্য ছিল। তৎকালে বাঙ্গালা মুদ্রাযন্ত্র প্রায় ছিল না। যাহাদের হস্তাক্ষর উৎকৃষ্ট হইত, তাহারা সংস্কৃত পুস্তক হস্তে লিখিত। হস্তাক্ষর উৎকৃষ্ট হইলে, তাহারা সাধারণের নিকট সম্মানিত হইত। এ কারণে অনেকে হস্তাক্ষর উৎকৃষ্ট করিবার জন্য বিশেষ যত্ন পাইত। তৎকালে এ প্রদেশে বিবাহসম্বন্ধ করিতে আসিলে, লোকে অগ্রে পাত্রের হস্তাক্ষর দেখিত, তৎপরে সম্বন্ধ স্থিরীকরণের ব্যবস্থা করিত।
গুরুমহাশয়গণ বর্ত্তমান স্কুল সমূহের শিক্ষকগণের ন্যায় কোনও কমিটী বা কোনও ব্যক্তির নিকট নির্দিষ্ট বেতন পাইতেন না। প্রত্যেক গৃহস্থ আপন আপন বালকদিগকে পাঠশালে দিবার সময় গুরুমহাশরের সহিত স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করিতেন। এইরূপে মাসে মাসে তাঁহার সামান্য ১০।১২ টাকা আয় হইত। তৎপরে যাত্রা, মহোৎসব, পার্ব্বণ, বা পারিবারিক অনুষ্ঠানাদিতে উপরি কিছু কিছু জুটিত, তাহাতেই গুরুমহাশয়দিগের সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ হইত। পাঠে অমনোযোগী ও দুর্বৃত্ত ছাত্রগণ হাতছড়ি, লাড়ুগোপাল, ত্রিভঙ্গ প্রভৃতি বিবিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইত। ১৮৩৪ সালে লর্ড উইলিয়ম বেণ্টিঙ্ক, মিষ্টর উইলিয়ম এডামকে দেশীয় শিক্ষার অবস্থা-পরিদর্শনার্থ নিয়োগ করিয়াছিলেন। তিনি পাঠশালা সকলের অবস্থা পরিদর্শন করিয়া গবর্ণমেণ্টের নিকট একটী মন্তব্য প্রেরণ করেন। তাহাতে প্রায় চতুর্দ্দশ প্রকার দণ্ড বিধান প্রণালীর উল্লেখ দেখা যায়। তাহার অনেকগুলির বিবরণ শুনিলে হৃৎকম্প উপস্থিত হয়।
পঞ্চম বৎসর বয়সের সময় বিদ্যাসাগরের বিদ্যারন্ত হয়। তৎকালে বীরসিংহ গ্রামে সনাতন বিশ্বাস পাঠশালার সরকার ছিলেন। সনাতন