ছোট ছোট বালকগণকে শিক্ষা দিবার সময় বিলক্ষণ প্রহার করিতেন, তজ্জন্য শিশুগণ সর্ব্বদা শঙ্কিত হইয়া পাঠশালায় যাইতে ইচ্ছা করিত না। একারণ ঠাকুরদাস বীরসিংহ নিবাসী কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে শিক্ষক মনোনীত করিলেন। কালীকান্ত, ভঙ্গ কুলীন ছিলেন, সুতরাং বহুবিবাহ করিতে আলস্য করেন নাই। তিনি ভদ্রেশ্বরের নিকট গোরুটি গ্রামেই প্রায় অবস্থিতি করিতেন। অপরাপর শ্বশুর ভবনেও টাকা আদায় করিবার জন্য মধ্যে মধ্যে পরিভ্রমণ করিতেন। ঠাকুরদাস, তাঁহাকে অনেক উপদেশ দিয়া, সমভিব্যাহারে করিয়া বীরসিংহে আনিলেন এবং কয়েক দিন পরে পাঠশালা স্থাপন করিয়া দিলেন। কালীকান্ত অত্যন্ত ভদ্রলোক ছিলেন। শিশুগণকে শিক্ষা দিবার বিশেষরূপ প্রণালী জানিতেন এবং তাহাদিগকে আন্তরিক যত্ন ও স্নেহ করিতেন। এ কারণ, ছোট ছোট বালকগণ তাঁহার নিকট সর্ব্বদা অবস্থিতি করিতে ইচ্ছা করিত। এতদ্ভিন্ন তিনি সকলের সহিত সৌজন্য প্রকাশ করিতেন। স্থানীয় লোকগণ কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে আন্তরিক ভক্তি ও শ্রদ্ধা করিত, এবং সকলেই তাঁহাকে গুরুমহাশয় বলিত। কালীকান্তের নিকট বিদ্যাসাগর কিঞ্চিদূন তিন বৎসর ক্রমাগত শিক্ষা করিয়া বাঙ্গালা ভাষা ও সামান্য অঙ্ক কসিতে শিখিলেন। ঐ সময়েই তাহার হস্তাক্ষর উৎকৃষ্ট হইয়াছিল। কালীকান্ত নানা প্রকার কৌশল ও স্নেহ প্রদর্শন করিয়া শিক্ষা দিতে কিছুমাত্র ত্রুটি করেন নাই। তিনি আপন সন্তান অপেক্ষাও বিদ্যাসাগরকে ভালবাসিতেন। গুরুমহাশয় অপরাহ্ণে অপরাপর ছাত্রগণকে অবকাশ দিতেন। কেবল বিদ্যাসাগর মহাশয়কে তাঁহার নিকটে রাখিয়া সন্ধ্যার পর নামতা ও ধারাপাতাদি শিক্ষা দিতেন। অধিক রাত্রি হইলে, প্রত্যহ স্বয়ং ক্রোড়ে করিয়া বাটীতে
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৮৩
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিদ্যাসাগরের বিদ্যাশিক্ষা ৷
৬৯