বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭০
ভগবতীদেবী।

আনিয়া বিদ্যাসাগরের পিতামহীর নিকট পৌঁছিয়া দিতেন। গুরুমহাশয় একদিবস সন্ধ্যার সময় ঠাকুরদাসকে বলিলেন, “মহাশয়, আপনার পুত্র অদ্বিতীয় বুদ্ধিমান্, শ্রুতিধর বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। পাঠশালায় যাহা শিখিতে হয়, তৎ সমুদায়ই ইহার শিক্ষা হইয়াছে। ঈশ্বরকে এখান হইতে কলিকাতায় লইয়া যাওয়া অত্যন্ত আবশ্যক হইয়াছে। আপনি নিকটে রাখিয়া ইংরাজী শিক্ষা দিলে ভাল হয়। এ ছেলে সামান্য ছেলে নয়, বড় বড় ছেলেদের অপেক্ষা ইহার শিক্ষা অতি উত্তম হইয়াছে। আর হস্তাক্ষর যেরূপ হইয়াছে, তাহাতে পুঁথি লিখিতে পারিবে। বিদ্যাসাগরের কলিকাতায় যাইবার প্রস্তাব শুনিয়া ভগবতী দেবী উচ্চৈঃস্বরে রোপন করিতে লাগিলেন।

 ঠাকুরদাস ইং ১৮২৯ ও বাঙ্গালা ১২৩৫ সালের কার্ত্তিক মাসে গুরুমহাশয় কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে সমভিব্যাহারে লইয়া, কলিকাতা যাত্রা করিলেন। কলিকাতা, বীরসিংহ হইতে প্রায় ২৬ ক্রোশ উত্তর পূর্ব্বে। তৎকালে তথা হইতে কলিকাতার আসিবার সুগম পথ ছিল না। বিশেষতঃ পথে অত্যন্ত দস্যুর ভয় ছিল। প্রায় মধ্যে মধ্যে অনেকেই দস্যুদিগের হস্তে পতিত হইয়া প্রাণ হারাইত। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন পূর্ব্বক আসিতে হইত। ঘাটাল হইয়া রূপনারায়ণ নদী দিয়া, জলপথে নৌকারোহণে কলিকাতা যাইবার উপায় ছিল বটে, কিন্তু দস্যুভয় প্রযুক্ত নৌকায় যাইতে কেহ সাধ্যমতে ইচ্ছা করিত না। সুতরাং পদব্রজেই আসিতে হইল। বিদ্যাসাগর সমস্ত পথ চলিতে পারিবেন না বলিয়া, ভৃত্য আনন্দরাম গুটিকে ঠাকুরদাস সমভিব্যাহারে লইয়াছিলেন। যখন বিদ্যাসাগর চলিতে অক্ষম হইবেন, তখন মধ্যে মধ্যে এই বাহক, ক্রোড়ে বা স্কন্ধে করিয়া