বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিদ্যাসাগরের বিদ্যাশিক্ষা ৷
৭১

লইয়া যাইবেক ইহাই তাঁহার মন্তব্য ছিল। প্রথম দিবস বাটী হইতে ৬ ক্লোশ অন্তর পাতুল গ্রামে রাধামোহন বিদ্যাভূষণের বাটীতে উপস্থিত হইলেন। পরদিবস সমস্ত দিনের পর সন্ধ্যার সময়, তথা হইতে ১০ ক্রোশ অন্তর সন্ধিপুর গ্রামে রাজচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাটীতে আগমন করিলেন। পরদিবস প্রাতে শ্যাখালা গ্রামের প্রান্তভাগে যে বাঁধা রাজপথ শালিকা পর্য্যন্ত গিয়াছে, সেই পথ দিয়া গমনকালে বিদ্যাসাগর মহাশয় পথে মাইল—ষ্টোন দেখিয়া বলিলেন, “বাবা! হলুদ বাটিবার শিল এখানে কেন মাটিতে পোতা রহিয়াছে? আর ইহাতে কি লেখা আছে?” তদুত্তরে ঠাকুরদাস বলিলেন, “ইহাকে মাইল—ষ্টোন বলে। ইহাতে ইংরাজী ভাষার নম্বর লেখা আছে। এক মাইল (বাঙ্গালা অর্দ্ধ ক্রোশ) অন্তর এক একটা এইরূপ পাথর পোতা আছে।” শ্যাথালা হইতে শালিকার ঘাট পর্য্যন্ত এইরূপ মাইল—ষ্টোনে ইংরাজী অঙ্ক দেখিয়া বিদ্যাসাগর মহাশয় ইংরাজী ১ এক সংখ্যা হইতে ১০ পর্য্যন্ত চিনিলেন। কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও ঠাকুরদাস মধ্যে জগদীশপুরে যে স্থানে মাইলষ্টোন ছিল,সেই স্থান দেখান নাই। ইহার কারণ বিদ্যাসাগর অক্ষর চিনিতে পারিয়াছেন কি না, জানিবার অভিপ্রায়ে উভয়ে যুক্তি করিয়াছিলেন। বিদ্যাসাগর বলিলেন, “ইহার পূর্ব্বে তবে ১টা পাথর আমরা দেখিতে বিস্মিত হইয়াছি।” তখন কালীকান্ত বলিলেন, “ঈশ্বর, তুমি ইংরাজী সংখ্যা চিনিয়াছ কি না জানিবার জন্য আমরা ঐরূপ করিয়াছি। তুমি যে বলিতে পারিলে, তাহাতে আমরা পরম আহ্লাদিত হইলাম।” শ্যাথালা গ্রাম হইতে শালিকার গঙ্গার ঘাট ১০ ক্রোশ। সন্ধ্যার সময় তথায় সকলে উপস্থিত হইলেন, এবং গঙ্গাপার হইয়া বড়বাজারে বাবু জগর্দ্দুলভ