সরকারের নিকট শিক্ষা করিবার জন্য তিনি বিদ্যাসাগরকে পাঠাইয়া দেন। বিদ্যাসাগর কার্ত্তিক, অগ্রহায়ণ দুই মাস তাঁহার নিকট লেখাপড়া শিক্ষা করেন। তিনি প্রত্যহ ঠাকুরদাসকে বলিতেন, “বীরসিংহের কালীকান্ত খুড়ার পাঠশালে যেরূপ উপদেশ ও শিক্ষা পাইয়াছি, তদপেক্ষা ইহার নিকট অতিরিক্ত কিছুই শিক্ষা করিবার আশা নাই।” ইহার কয়েক দিন পরে, বিদ্যাসাগর উদরাময়ে আক্রান্ত হইয়া, সর্ব্বদা অসাবধান অবস্থায় শয্যায় মলমূত্র ত্যাগ করিতে লাগিলেন। অন্য কেহ অভিভাবক না থাকায়, ঠাকুরদাসকেই ঐ বিষ্ঠা স্বহস্তে পরিষ্কার করিতে হইত। এক একদিন এরূপ হইত যে, সিঁড়িতে মলত্যাগ করিলে, সমস্ত সিঁড়িতে তরল মল গড়াইয়া পড়িত। ঠাকুরদাস স্বহস্তে ঐ বিষ্ঠা পরিষ্কার করিতেন। এই সংবাদ বীরসিংহে প্রেরিত হইলে, ভগবতী দেবী কাঁদিয়া আকুল হইলেন, ভাবিয়া অস্থির হইয়া পড়িলেন এবং আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করিলেন। কলিকাতায় আসিবার জন্য ব্যগ্রতা প্রকাশ করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাঁহার শ্বশ্রূ দুর্গা দেবী পৌত্রের এই নিদারুণ পীড়ার সংবাদ শ্রবণ করিয়া অনতিবিলম্বেই কলিকাতায় উপস্থিত হইলেন এবং তথা হইতে পৌত্রকে দেশে লইয়া গেলেন।
তৎকালে পল্লীগ্রাম হইতে যে সকল লোক প্রথমে কলিকাতায় আসিতেন, তাঁহাদের মধ্যে অনেকেই অজীর্ণ রোগে আক্রান্ত হইতেন। এ পীড়াকে সাধারণতঃ সকলে ‘লোনা লাগা’ কহিত।
এখন পল্লীগ্রাম হইতে পীড়িত হইয়া লোকে সুস্থ হইবার জন্য কলিকাতা নগরীতে আগমন করে। তখন কলিকাতাতে দুই মাস অবস্থিতি করিলেই, লোকের শরীর ভগ্ন হইত এবং কলিকাতা হইতে বাহির হইলে,