বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৪
ভগবতীদেবী।

তৎপর দিনই শরীর একটু সুস্থ বোধ হইত। সে সময়ে কলিকাতার যে অবস্থা ছিল, তাহাতে এরূপ ঘটনা কিছুই বিচিত্র নহে। তখন জলের কল ছিল না। প্রত্যেক ভবনে এক একটী কূপ ও প্রত্যেক পল্লীতে দুই চারিটী পুষ্করিণী ছিল। এই সকল পচা দুর্গন্ধময় জলপূর্ণ পুষ্করিণীগুলি জ্বরের উৎস স্বরূপ ছিল। এতদ্ভিন্ন গবর্ণমেণ্ট স্থানে স্থানে কয়েকটী দীর্ঘিকা খনন করাইয়া দিয়াছিলেন, তাহাতে কাহাকেও স্নান করিতে দিতেন না। সেইগুলি লোকের পানার্থ ব্যবহৃত হইত। তন্মধ্যে লালদিঘী সর্ব্বপ্রধান ছিল। উড়িয়া ভারিগণ ঐ জল বহন করিয়া গৃহে গৃহে দিয়া আসিত। যখন জলের এই প্রকার দুরবস্থা, তখন অপর দিকে সহরের বহিরাকৃতিও অতীব ভীষণ ছিল। এখনকার ফুটপাথের পরিবর্ত্তে প্রত্যেক রাজপথের পার্শ্বে জল নির্গমের জন্য এক একটা সুবিস্তীর্ণ পয়ঃপ্রণালী ছিল। কোন কোনও পয়ঃপ্রণালীর পরিসর আট দশ হস্তেরও অধিক ছিল। প্রতি গৃহেই পথের পার্শ্বে এক একটা শৌচাগার ছিল। সেগুলি দিবারাত্রি অনাবৃত থাকিত। সেইজন্য নাসারন্ধ্র উত্তমরূপে বস্ত্রাবৃত না করিয়া সেই সকল পথ দিয়া গমন করা দুরূহ ছিল। মাছি ও মশার উপদ্রব যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। সেই জন্যই বালক কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বলিয়াছিলেন,—

“রেতে মশা দিনে মাছি,
দুই নিয়ে কল্‌কেতায় আছি।”

 বীরসিংহে ৩।৪ মাস অবস্থিতি করিয়া ব্যিাসাগর রোগমুক্ত হইলেন। পুনর্ব্বার জ্যৈষ্ঠ মাসে ঠাকুরদাস দেশে আসিয়া বিদ্যাসাগরকে সমভিব্যাহারে লইয়া কলিকাতায় যাত্রা করিলেন। ঐ সময়ে বিদ্যাসাগরকে