ঠাকুরদাস জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেমন ঈশ্বর! এবার বরাবর বাটী হইতে কলিকাতায় চলিয়া যাইতে পারিবে ত? যদি চলিতে না পার, তাহা হইলে একজন লোক সঙ্গে লইব। সে মধ্যে মধ্যে তোমাকে ক্রোড়ে করিবে।” ভগবতী দেবী ও দুর্গাদেবীও বারম্বার অনুরোধ করিতে লাগিলেন কিন্তু বিদ্যাসাগর উত্তর করিলেন যে, “এবার চলিয়া যাইতে পারিব; সঙ্গে লোক লইবার আবশ্যক নাই।” পরদিন ঠাকুরদাস পুত্রকে সঙ্গে লইয়া পাতুলগ্রামে রাধামোহন বিদ্যাভূষণের ভবনে অবস্থিতি করিলেন। তৎপর দিবস তথা হইতে তারকেশ্বরের সন্নিহিত রামনগর গ্রামে কনিষ্ঠা পিতৃস্বসার বাটী যাত্রা করিলেন। রাজবলহাটের দোকানে উপস্থিত হইয়া উভয়ে ফলাহার করিলেন। তথা হইতে উঠিবার সময় বিদ্যাসাগর বলিলেন, “বাবা, আমি আর চলিতে পারিব না। পিতা কতই বুঝাইলেন, তাহাতে বিদ্যাসাগর বলিলেন, “দেখুন পা ফুলিয়া গিয়াছে, আর পা ফেলিতে পারিব না।” পিতা বলিলেন, “একটু চল, আগে যাইয়া তরমুজ কিনিয়া দিব।” এই বলিয়া ভুলাইতে আরম্ভ করিলেন, কিন্তু তিনি কিছুতেই এক পাও চলিলেন না। পিতা বলিলেন, “যদি চলিতে না পারিবে, তবে লোক সঙ্গে লইতে কেন বারণ করিলে?” এই বলিয়া প্রহার করিলেন। তাহাতে বিদ্যাসাগর রোদন করিতে লাগিলেন। “তবে তুই এখানে থাক্, আমি চলিলাম" এই বলিয়া পিতা কিয়দ্দুর গমন করিয়া দেখিলেন, পুত্র সেই স্থানে বসিয়া আছে, এক পাও চলে নাই। কি করেন, পিতা অগত্যা ফিরিয়া আসিয়া পুত্রকে স্কন্ধে লইয়া চলিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে বলিলেন, “এবার খানিক চল, আগের দোকানে তরমুজ কিনিয়া দিব।” ঠাকুরদাস অতি খর্ব্বকায়
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৮৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিদ্যাসাগরের বিদ্যাশিক্ষা।
৭৫