বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিদ্যাসাগরের বিদ্যাশিক্ষা।
৭৭

পুরের মিশনারিগণ সে সময়ে এই বলিয়া তাঁহাদের আশ্রিত ব্যক্তিদিগকে প্রশংসাপত্র দিতেন যে, এ ব্যক্তি দুই শত বা তিন শত ইংরাজী শব্দ শিখিয়াছে। এই কারণে সে সময়ে কোনও কোনও বালক ইংরাজী অভিধান মুখস্থ করিত। অনেক বিদ্যালয়ে দৈনিক পাঠ সমাপ্ত হইলে, স্কুল বন্ধ হইবার পূর্ব্বে নামতা পড়াইবার ন্যায় ইংরাজী শব্দ পড়ান হইত। যথা—

ফিলজফার - বিজ্ঞলোক, প্লৌম্যান - চাষা।
পমকিন্ লাউ কুমড়া, কুকুম্বার – শসা ॥

বাক্যহীন ও ব্যাকরণহীন ইংরাজী শব্দের দ্বারা তৎকালীন ইংরাজী শিক্ষিত ব্যক্তিগণ ইংরাজগণের সহিত কথাবার্তা কহিতেন। ইংরাজগণও ভাবে, আকারে ইঙ্গিতে তাঁহাদের কথাবার্তা বুঝিয়া লইতেন। এবং সেই সকল প্রসঙ্গ সায়াহিক ভোজের সময়ে তাঁহাদের আমোদ প্রমোদের বিশেষ সহায়তা করিত।

 কিছুদিন পরে ঠাকুরদাস স্থির করিলেন যে, আমাদের বংশের পূর্ব্বপুরুষগণ সকলেই সংস্কৃত অধ্যয়ন করিয়া বিদ্যাদান করিয়াছেন। কেবল আমাকে দুর্ভাগ্য প্রযুক্ত বাল্যকাল হইতে সংসার প্রতিপালন জন্য আশু অর্থকরী ইংরাজী বিদ্যাশিক্ষা করিতে হইয়াছে। ঈশ্বর সংস্কৃত অধ্যয়ন করিলে, দেশে টোল করিয়া দিব। জগদ্দুর্লভ সিংহের বাটীতে অনেক পণ্ডিত বার্ষিক আদায় করিতে আসিতেন। তন্মধ্যে পটোলডাঙ্গাস্থ গবর্ণমেণ্ট সংস্কৃত কলেজের ব্যাকরণের ৩য় শ্রেণীর পণ্ডিত গঙ্গাধর তর্কবাগীশ মহাশয়ের সহিত ঠাকুরদাসের আলাপ ছিল। তাঁহাকে পরামর্শ জিজ্ঞাসা করায়, তিনি উপদেশ দিলেন যে, কলেজে প্রবিষ্ট করিয়া দিলে