বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৮
ভগবতী দেবী।

৫।৬ মাস পরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইলে, আপাততঃ মাসে মাসে ৫ টাকা বৃত্তি পাইবে। দেশের টোলে পড়িতে দিলে সংক্ষিপ্তসার অধ্যয়ন করিতে দীর্ঘকাল লাগিবে। কলেজে মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ অধ্যয়ন করিয়া ৩ বৎসরের মধ্যে ব্যাকরণে ব্যুৎপত্তি জন্মিলে, কাব্যের শ্রেণীতে প্রবিষ্ট হইতে পারিবে। দ্বিতীয়তঃ তৎকালে পাতুলগ্রামনিবাসী রাধামোহন বিদ্যাভূষণের পিতৃব্যপুত্র মধুসূদন বাচস্পতি, সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করিতেন এবং বৃত্তি পাইতেন। ঠাকুরদাস উক্ত বাচস্পতিকে পরামর্শ জিজ্ঞাসা করিলে তিনিও পরামর্শ দেন যে, “ঈশ্বরকে সংস্কৃত কলেজে ভর্ত্তি করিয়া দাও।”

 জগদ্দুর্লভ সিংহের ভগিনী রাইমণি দাসী ও তাঁহার পরিবারগণ বিদ্যাসাগর মহাশয়কে অতি শিশু দেখিয়া, অত্যন্ত ভালবাসিতেন। ঠাকুরদাস চাকুরী উপলক্ষ্যে প্রাতঃকাল হইতে বেলা ৯টা পর্যন্ত কার্য্য সমাধা করিয়া বাসায় প্রত্যাবৃত্ত হইতেন। পরে পাকাদি কার্য্য সম্পন্ন করিয়া পিতাপুত্রে ভোজন করিতেন। কর্ম্মস্থল হইতে বাসায় আসিয়া রাত্রি দশটার সময় পুনর্ব্বার পাকাদি কার্য্য সমাধা করিয়া, ভোজনান্তে উভয়ে নিদ্রা যাইতেন। প্রাতঃকাল হইতে অষ্টমবর্ষীয় বালক বিদ্যাসাগর প্রায় সমস্ত দিন এই দুই দয়াময়ী মহিলার দয়ার উপর নির্ভর করিয়া বিদেশে অবস্থিতি করিতেন। তাঁহারা স্নেহপূর্ব্বক তাঁহাকে খাবার দিতেন ও কথাবার্তায় ভুলাইয়া রাখিতেন। বিদ্যাসাগর যখন জননী প্রভৃতির জন্য ভাবনা করিতেন, তখন ঐ রমণীদ্বয় ভুলাইয়া ও কত প্রকার গল্প বলিয়া সান্ত্বনা করিতেন এবং দেশের জন্য বা জননীর জন্য ভাবিতে দিতেন না। উক্ত রাইমণি দাসী ও জগদ্দুর্লভ সিংহের পত্নীর দক্ষ