বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮০
ভগবতীদেবী।

 জননীর স্নেহ ও ভালবাসা হইতে দূরে থাকিয়া এই সকল নীচ আমোদ-প্রিয় পুরুষ দলবেষ্টিত সহরে আসিয়া বাস করিতে হইলে, সিংহ পরিবারের ন্যায় পরিবার মধ্যে আশ্রয় লাভ করা অতীব সৌভাগ্যের বিষয় মনে করিতে হইবে। সিংহ পরিবারের স্নেহ ও ভালবাসা বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যে কি মহা ইষ্ট সাধন করিয়াছিল, তাহা বাক্যে বর্ণনা করিতে পারা যায় না। উত্তরকালে যাঁহারা বঙ্গদেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়াছিলেন, তাঁহাদের অনেকে নারীগণের এইরূপ অযাচিত স্নেহ পাইয়া মানুষকে ভালবাসিতে শিখিয়াছিলেন। এই সিংহ পরিবারের রাইমণি প্রবাসে বিদ্যাসাগরের মাতৃস্থান অধিকার করিয়াছিলেন। তাঁহার অনুপম স্নেহ ও যত্নের দ্বারা তিনি কি পরিমাণে বিদ্যাসাগরের হৃদয় পরিতৃপ্ত করিয়াছিলেন, সে সম্বন্ধে তাঁহার আত্মজীবনচরিতে তিনি যাহা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন, তাহা উদ্ধৃত করিয়া পাঠকবর্গকে উপহার দিলাম:—

 “তাঁহার একমাত্র পুত্র গোপালচন্দ্র ঘোষ আমার প্রায় সমবয়স্ক ছিলেন। পুত্রের উপর জননীর যেরূপ স্নেহ ও যত্ন থাকা উচিত ও আবশ্যক, গোপালচন্দ্রের উপর রাইমণির স্নেহ ও যত্ন তদপেক্ষা অধিকতর ছিল, তাহাতে সংশয় নাই। কিন্তু আমার আন্তরিক দৃঢ় বিশ্বাস এই, স্নেহ ও যত্ন বিষয়ে আমায় ও গোপালে রাইমণির অণুমাত্র বিভিন্নতা ছিল না। ফল কথা এই, স্নেহ, দয়া, সৌজন্য, অমায়িকতা, সদ্বিবেচনা প্রভৃতি সদগুণ বিষয়ে রাইমণির সমকক্ষ স্ত্রীলোক এ পর্যন্ত আমার নয়নগোচর হয় নাই। এই দয়াশীলা সৌম্যমূর্ত্তি আমার হৃদয় মন্দিরে দেবীমূর্ত্তির ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হইয়া বিরাজমান রহিয়াছে। প্রসঙ্গক্রমে তাঁহার কথা উপস্থিত হইলে, তদীয় অপ্রতিম গুণের কীর্ত্তন করিতে