বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮১

করিতে অশ্রুপাত না করিয়া থাকিতে পারি না। পক্ষপাতী বলিয়া অনেকে নির্দেশ করিয়া থাকে। সে নির্দেশ অসঙ্গত নহে। যে ব্যক্তি রাইমণির সেই দয়া, সৌজন্য প্রভৃতি প্রত্যক্ষ করিয়াছে, এবং ঐ সমস্ত গুণের ফলভোগী হইয়াছে, সে যদি স্ত্রীজাতির পক্ষপাতী না হয়, তাহা হইলে তাহার তুল্য কত পামর ভূমণ্ডলে নাই।” শুনা যায়, মহাত্মা ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনও বাল্যকালে নারীজাতির স্নেহ মমতা লাভ করিয়াছিলেন বলিয়া উত্তরকালে নারীজাতির বিশেষ পক্ষপাতী হইয়াছিলেন।

 বিদ্যাসাগর কলিকাতায় আগমন করিলে, প্রথমতঃ পুত্রবৎসলা জননী ভগবতী দেবী পুত্রের জন্য ব্যাকুল হৃদয়ে দিনযাপন করিতেন। অবিরত অশ্রুবিসর্জ্জন করিয়া হৃদয়ের গুরুভার লাঘব করিতেন। পরিশেষে যেদিন শুনিলেন, রাইমণির দয়াদাক্ষিণ্যে বিদ্যাসাগর প্রবাসে পরিপুষ্ট হইতেছেন, সেই দিন হইতে তিনি কথঞ্চিং ধৈর্য্যাবলম্বন করিতে পারিয়াছিলেন। সেইদিন হইতেই গৃহের অন্যান্য নিত্য নৈমিত্তিক ধর্ম্মানুষ্ঠানের ন্যায়, রাইমণির ও তাঁহার পুত্রের মঙ্গল কামনা তাঁহার নিত্য কার্য্যের মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিল।

 ইংরাজী ১৮২৯ সালের জুন মাসের প্রথম দিবসেই ঠাকুরদাস বিদ্যাসাগরকে কলিকাতাস্থ পটোলডাঙ্গা গবর্ণমেণ্ট সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের ৩য় শ্রেণীতে প্রবিষ্ট করাইয়া দিলেন। এই দিন বঙ্গসাহিত্যের ও বাঙ্গলার ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। এই দিনের মাহাত্ম্য এক্ষণে আমরা সম্পূর্ণরূপে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিতেছি। যে সুললিত দেবভাষা সংস্কৃতের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে এ পর্যন্ত কেহই সাহসী হন নাই