এবং যাঁহারা প্রতিযোগিতা করিবার উদ্যোগ করিয়াছিলেন, তাঁহারাও ব্যর্থমনোরথ হইয়াছেন, বাঙ্গালীর গৌরবের বিষয় বলিতে হইবে যে, আজ বঙ্গসাহিত্য এবং বঙ্গভাষা সেই স্থললিত দেবভাষা সংস্কৃতের প্রতিদ্বন্দ্বিরূপে দণ্ডায়মান হইতে সাহসী হইয়াছে। বাঙ্গালীর সৌভাগ্য যে, বিদ্যাসাগর বঙ্গভাষার জননী সংস্কৃতভাষার সেবার নিমিত্ত সংস্কৃত কলেজে প্রবিষ্ট হইয়াছিলেন। তাঁহার যায় বিরাট মহাপুরুষ ব্যতীত কে মাতৃভাষার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করিতে পারিতেন? তিনি সযত্নে ও পরিশ্রমে যে মাতৃভাষাতরু রোপণ করিয়া গিয়াছিলেন, তাহাতে অক্ষয়কুমার, বঙ্কিমচন্দ্র, কালীপ্রসন্ন, মধুসূদন, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র প্রভৃতি বঙ্গজননীর কৃতী সন্তানগণ যত্নসহকারে প্রতিভাবারি সিঞ্চন করিয়াছেন বলিয়াই আজ আমরা মাতৃভাষাতরুকে ফলপুষ্পে সুশোভিত মহীরুহরূপে অনুধ্যান করিতে পারিতেছি।
বিদ্যাসাগর যখন সংস্কৃত কলেজে পরিগৃহীত হন,তখন তাঁহার বয়ঃক্রম নয় বৎসর মাত্র। ইহার পূর্ব্বে তাঁহার সংস্কৃত শিক্ষা আরম্ভ হয় নাই। আমার অপেক্ষা ক্লাসে আর কেহ উৎকৃষ্ট শিক্ষা করিতে না পারে, এরূপ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইয়া বিদ্যাভ্যাস করিতে ঈশ্বরচন্দ্র চিরকাল আন্তরিক যত্ন পাইয়াছিলেন। এমন কি শৈশবকালে প্রায় সমস্ত রাত্রি জাগরণ করিয়া পাঠাভ্যাস করিতেন। প্রায়ই পিতাকে বলিতেন, “রাত্রি দশটার সময় আহার করিয়া শয়ন করিব, আপনি রাত্রি ১২টা বাজিলে আমায় তুলিয়া দিবেন, নচেৎ আমার পাঠাভ্যাস হইবে না।” পিতা আহারের পর দুই ঘণ্টা বসিয়া থাকিতেন। নিকটে আরমাণি গির্জার ঘণ্টারব শুনিয়া, তাঁহার নিদ্রা ভঙ্গ করিয়া দিতেন। পরে তিনি উঠিয়া সমস্ত রাত্রি অধ্যয়ন করি-