তেন। এইরূপ অত্যধিক পরিশ্রম করিয়া মধ্যে মধ্যে তিনি অত্যন্ত কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হইতেন। যেমন তিনি পাঠে অনুরক্ত ছিলেন, সেইরূপ শিক্ষকগণের প্রতি ভক্তিমান্ ও সমপাঠীদিগের সহিত প্রীতির বন্ধনেও আবদ্ধ ছিলেন। লোকে মনে করিয়া থাকে, লিখিয়া পড়িয়া কৃতী ও কার্য্যক্ষম হওয়ার নামই শিক্ষা। কিন্তু গুরু শিষ্যের ভক্তির সম্বন্ধ, বালকে বালকে সখ্যভাব যে শিক্ষার এক প্রধান অঙ্গ—তাহা অনেকে জানেন না। সেইজন্য বর্ত্তমান শিক্ষাপ্রণালীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ন্যায় মানুষ প্রস্তুত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব হইয়া উঠিয়াছে।
নয় বৎসর বয়সের সময় সংস্কৃত কলেজে প্রবিষ্ট হইয়া ২২ বৎসরের মধ্যে বিদ্যাসাগর কলেজের পাঠ্য সমস্ত বিদ্যায় পারদর্শী হইলেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁহার অনুজ দীনবন্ধু ন্যায়রত্ন ও শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ করিয়াছিলেন এবং বিদ্যাসাগর ও দীনবন্ধু ন্যায়রত্নের শুভ বিবাহকার্য্য সুসম্পন্ন হইয়াছিল। সন্তানগণের পঠদ্দশায় ভগবতী দেবী চরকায় সূতা কাটিয়া পুত্রগণের জন্য বস্ত্র প্রস্তুত করিয়া কলিকাতায় পাঠাইয়া দিতেন। ভ্রাতৃগণ সেই মোটা বস্ত্র পরিধান করিয়া অধ্যয়নার্থ পটোলডাঙ্গায় কলেজে গমন করিতেন। বিদ্যাসাগর মহাশয়কে আজীবন মোটাবস্ত্র পরিধান করিতে দেখা গিয়াছে। তিনি কখন সূক্ষ্ম বস্ত্র পরিধান করেন নাই।