করিতেছে, তাহা উপলব্ধি ও অনুভব করিতে সে অসমর্থ। সেইজন্য, আপনার মোহবশে সে তাহার চতুর্দ্দিকের এই বৃহৎ জগতকে, এই বিপুল মানব সমাজকে সঙ্কীর্ণ ও ক্ষুদ্র করিয়া তাহার আপন ধারণার ও হৃদয়ের উপযুক্ত করিয়া লয়। কিন্তু, ক্রমে তাহার জ্ঞান যতই পরিস্ফুট হইয়া উঠে,প্রাণ যতই প্রসারিত হইতে থাকে, ততই সে তাহার সেই ক্ষুদ্র জগতের সীমার গণ্ডীকে বিস্তৃত ও বৃহৎ করিয়া তুলে। এই ক্রমোন্নতি ও ক্রমবিকাশই সংসারের নিয়ম। এই নিয়মের বশে মনুষ্যহৃদয় তাহার আপন ক্ষুদ্র সীমা অতিক্রম করিয়া, ক্রমে পরিবারের, তাহার পর গ্রামের, তাহার প্রদেশের,তাহার পর দেশের ও অবশেষে জগতের সকলেরই মধ্যে ব্যাপ্ত হইয়া পড়ে। তখন তাহার চতুর্দ্দিকের এই অসঙ্খ্য দেশকে সে একই পৃথিবী বলিয়া উপলব্ধি করে, এবং বহুবর্ণে, ধর্ম্মে ও আচার ব্যবহারে পৃথগ্ভূত এই অগণ্য মানবসমাজকে তাহার আপন সমাজ বলিয়া সে স্বীকার করে। তখন এই পৃথিবীর সকল দেশই তাহার স্বদেশ, সকল জাতিই তাহার স্বজাতি। এই উদারতা, এই সভ্যতাই উন্নতির চরম আদর্শ।
মহাজনগণের কথা স্বতন্ত্র। যাঁহারা বিশ্বপ্রেমিক, দিব্যজ্ঞানালোকে যাঁহাদিগের চক্ষু জ্যোতিষ্মান্, বসুধাকে যাঁহারা আপনার বলিয়া মনে করিতে পারিয়াছেন, যাঁহারা ‘অয়ং নিজঃ পরোবেতি’ গণনা বিস্তৃত হইয়া, সাধনার বলে ধৃতি, ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা চরিত্রগত করিয়াছেন, ইহ সংসারে শোণিতসম্পর্কবিচার তাঁহাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করি না। কারণ, তাঁহারা স্বজাতি বা পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসিবৃন্দকে এক পরিবারস্থ মনে করিয়া, তাঁহাদেরই পরিচর্য্যায় আত্মসমর্পণ করিয়াছেন। কিন্তু