পাতা:বিন্দুর ছেলে - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

age নামের পুজনমাক্তি উনি বড় সয়তান। ঠাকুরকে খবরটা একবার দিয়েও যেতে হবে, না হ’লে হয় তা বা মনে করবে, থানায় যাবার মতলব আমরা দিয়েছি। বিঘেটাক বেগুন-চারা লাগিয়েছি।--বেশ, ডাগর হয়েও উঠেছে-হয় তা আজি রাত্তিরেই সমস্ত উপড়ে রেখে যাবে। বাগদী ছোড়াগুলো ত রাত্রে ঘুমোয় না। বাবু, থানায় না হয় আর একদিন যেয়ো-আজ এক শিশি ওষুধ নিয়ে গিয়ে ওনারে ঠাণ্ড ক’রে এসো। বৃদ্ধ চলিয়া গেল, আর যাহারা ছিল, তাহারাও সরিয়া পড়িঙ্গে লাগিল । নীলমণি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া মানবজীবনের শেষ অভিজ্ঞতা-- সংসারের সৰ্ব্বোত্তম জ্ঞানের বাক্যটি আবৃত্তি করিয়া উঠিয়া বাড়ীর ভিতরে গেলেন-দুনিয়ার কারও ভাল কৰ্ত্তে নেই। নারায়ণী বাহিরের দিকের জানালায় চোখ রাখিয়া ছট্‌ফট্‌ করিতে ছিলেন । রাম বাড়ী ফিরিয়া আসিয়া ডাকিল, গোবিন্দ, খাচা ধরুবি আয়! নারায়ণী ডাকিলেন, ও রাম, এ-দিকে আয় । রাম কঞ্চির মধ্যে সাবধানে কাঠি পরাইতে পরাইতে বলিল, এখন না, কাজ কচ্চি। নারায়ণী ধমক দিয়া বলিলেন, আয় বলচি শীগগির। রাম কাঠিগুলা নামাইয়া রাখিয়া বৌদির ঘরে গিয়া তক্তপোষের একধারে পায়ের কাছে গিয়া বসিল । নারায়ণী জিজ্ঞাসা করিলেন, ডাক্তারের সঙ্গে তোর দেখা হ’ল ? ई। কি বললি তাকে! আসতে বললুম। নারায়ণী বিশ্বাস করিলেন না-শুধু আসতে বললি-আর কিছু বলিস নি ?